রোহিঙ্গারা যেতে চায় না, ঝুলেই থাকল প্রত্যাবাসন

২২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৩০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪০

দীর্ঘ দেনদরবারের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পরপর দুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁদের অনীহার কারণে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় আজকে প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। তবে যদি কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মিয়ানমার ফিরতে রাজি হন, তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হবে।

‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে,’ যোগ করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

মিয়ানমার থেকে ছাড়পত্র পাওয়া তিন হাজার ৪৫০ জনের মধ্যে গত তিন দিনে প্রায় তিনশজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের দপ্তর। আজও দুপুর পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। এ সময় তিনি জানান, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া  চলমান থাকবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে তালিকায় থাকা সব রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। তালিকা থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য যাঁরা রাজি থাকবেন, তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হবে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচটি বাস ও তিনটি ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাঁরাই স্বেচ্ছায় মিয়ানমার যেতে চাইবেন, তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হবে বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তাও কক্সবাজারে রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশে আরো প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।