Beta

ঈদের ছুটিতে মিরপুর চিড়িয়াখানায় উপচে পড়া ভিড়

১৩ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানায় মঙ্গলবার নেমেছিল মানুষের ঢল। ছবি : এনটিভি

ঈদের ছুটি বলে কথা! ঢাকার অন্যসব বিনোদনের জায়গার মতো মিরপুর চিড়িয়াখানায় মঙ্গলবার নেমেছিল মানুষের ঢল। নাগরিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ যেন একটু স্বস্তি নিতেই এসেছে এখানে।

শুধু নগরীর মানুষ নয়, দূর-দূরান্তে থেকে একটু বিনোদনের আশায় পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন অনেকেই। অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুদের আসার সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ঘুরতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা হয়।

রাজধানীর বনশ্রী থেকে পরিবারসহ ঘুরতে আসে হানিফ সরদার। পরিবারের ভেতরে আছেন দুই মেয়ে, এক ছেলে আর তাঁর স্ত্রী। হানিফ সরদার বলেন, ‘ঈদের পরের দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। ঈদে গ্রামে যেতে পারলাম না। মনটা খারাপই ছিল। এখানে এসে কিছুটা হলেও ভালো লাগছে।’

একটি গণমাধ্যমের নিউজ প্রডাকশনে কাজ করেন মো. ফারুক। স্ত্রী আর ছেলে রাফিন ইউসামকে (৩) নিয়ে তাঁর সংসার। ঘুরতে ঘুরতে ইউসাম বলে, ‘আমি ঘুরছি, আমি টাইগার দেখেছি।’ ইউসাম কথা বলতে বলতেই স্টাইল করে দাঁড়িয়ে যায় ছবি তুলতে।

বাবা-মা বোনের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে অজিব (৪)। অজিব বলে,  ‘প্রথমে আমি বানর দেখেছি, তারপর হরিণ দেখেছি। বাবা-মার সঙ্গে ঘুরছি। মজা করছি।’

শুধু অজিব কিংবা ইউসাম নয়, এমন হাজারো শিশু পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে চিড়িয়াখানায়। শুধু শিশুরাই নয়, এসেছে প্রেমিক যুগলসহ আরো অনেক ধরনের সম্পর্কের মানুষ। তারা সবাই চিড়িখানায় বিভিন্ন ধরনের পশু দেখেছেন, ঘুরেছেন আর খেয়েছেন।

আবু সামা নামের একজন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন রাজধানীর উত্তরা থেকে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে বলল, বাবা ঘুরতে যাব। ভাবলাম এখানে নিয়ে আসি। তাই নিয়ে চলে এসেছি। ভালোই লাগছে। অনেকদিন এমন সুন্দর সবুজ পরিবেশ দেখা হয় না।’

আদনান রহমান তাঁর স্ত্রী রাহিমাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। আদনান বলেন, ‘বউকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। গ্রামের বাড়িতে যাইনি এবার। ঘরের ভেতরেও ভালো লাগছিল না। তাই চলে এসেছি এখানে।’

অন্যদিকে, মিরপুর চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আজ দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার লোক চিড়িয়াখানায় এসেছে। আরো অন্তত ২০ হাজারের বেশি লোক আসবে। তবে অন্যবার ঈদের পরের দিন এক লাখেরও বেশি লোক আসে এখানে।’

Advertisement