Beta

ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ যুবক নিহত

০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৮:২২ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪৫

ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে শহরতলির শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী ও রাত আড়াইটায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পার্টিরা কালাহদহ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় পৃথকভাবে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জনি মিয়া (২৬) ও জহিরুল ইসলাম (২০)। পুলিশের দাবি, জনি মিয়া মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জনির বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ ১১টির বেশি মামলা আছে। অন্যদিকে জহিরুল ইসলাম গণধর্ষণ মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘ডিবি পুলিশের একটি টিম মধ্যরাতে গোপন সূত্রে সংবাদ পায় যে শহরতলির শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী অবস্থান করছে। পরে ডিবি পুলিশ তাদের আটক করার চেষ্টা করলে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ও ঢিল মারতে থাকে। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শটগানের ১৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। এ সময় পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে মো. জনি মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী যুবক ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হয়। পরে জনিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জনি মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, একটি স্টিলের চাকু ও শটগানের ১৪ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ আরো বলেন, ‘ফুলবাড়ীয়া উপজেলার গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।’ তিনি জানান, গত ৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করে। এ সময় ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়।

ওসি আরো বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত আড়াইটার দিকে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার পার্টিরা কালাদহ ঈদগাহ মাঠের সামনে যায় ডিবি পুলিশ। তখন ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে শটগানের গুলি করলে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। এ সময় জহিরুল নামের একজন আসামিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

জহিরুল ইসলামের বাড়ি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামে।

Advertisement