Beta

পরীক্ষায় ফেল করে ‘ছেলেধরা নাটক’

২২ জুলাই ২০১৯, ২৩:১৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পরীক্ষায় খারাপ ফল করে বকুনি থেকে বাঁচতে ‘ছেলেধরার’ গুজব ছড়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্র। রোববার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মা-বাবার কাছে তুলে দেয় পুলিশ। ছবি : এনটিভি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পরীক্ষায় খারাপ ফল করে, পরিবারের বকুনি থেকে বাঁচতে ‘ছেলেধরার’ গুজব ছড়িয়ে ধরা পড়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনায় পুলিশ ওই ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তাকে পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছে।

গুজব ছড়ানো ছাত্রের নাম জামিউল ইসলাম জয় (১৪)। সে সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের প্রবাসী খোকন আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, রোববার একদল ছেলেধরা স্কুল থেকে ফেরার পথে জয়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় কৌশলে অপহরণকারীদের ফাঁকি দিয়ে পাশের চাটমোহর উপজেলার জার্দিস মোড়ে এক দোকানে আশ্রয়ে নেয়- এমন খবর পেয়ে চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন সেখানে উপস্থিত হয়ে স্কুলছাত্র জয়কে নিজ হেফাজতে নেন।

সহকারী পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদাররা তাঁকে জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় ছেলেটি একটি দোকানে ঢোকে। সে স্থানীয়দের জানায়, কয়েকজন লোক তাকে ভাঙ্গুড়া থেকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়েছিল এবং মুখে কিছু একটা দেওয়ায় সে অচেতন হয়ে পড়ে। হঠাৎ সে সচেতন হয় এবং এখানে সিএনজি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকায় সিএনজি থেকে নেমে দৌঁড়ে এই দোকানে এসেছে। সাথে সাথে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে ভাঙ্গুড়ায় থানায় নিয়ে আসে। পরে, জয়কে তার মা, স্কুলের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম এবং পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেলের উপস্থিতিতে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপকর্মের কথা ফাঁস করে দেয় এবং ছেলেধরা কাহিনী তৈরি করে নিজেই চাটমোহর যাওয়ার কথা স্বীকার করে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ছেলেটি দুষ্ট প্রকৃতির। রোববার তার অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সে দুই বিষয়ে ফেল করেছে। বাসার ফিরলে মাকে কী জবাব দেবে তা খুঁজে না পেয়ে সে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাশের থানা শহরে গিয়ে এই নাটক সাজায়।

থানায় উপস্থিত জয়ের মা জুলিয়া খাতুন বলেন, কী হয়েছে জানি না। আমি আমার ছেলে পেয়েছি, আমার আর কোনো কথা নেই।

সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করেছে। তাই মা-বাবার বকার ভয়ে এমনটা করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে সে।’

Advertisement