Beta

যমুনা বিপৎসীমার ৬৮ সেমির ওপরে, পানিবন্দি ৩০ হাজার

১৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:১০

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে নদীবেষ্টিত কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব উপজেলায় ভাঙনও রয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বন্যার পানিতে ডুবে কাজীপুর উপজেলায় সুমন নামের এক শিশু ও কবির হোসেন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫৬২ পরিবার।

আজ বুধবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিক জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাঙন। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উপজেলার বাঐখোলায় বাঁধে ধস নামলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পাউবো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ফলে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি ইউনিয়নে ৯৩৬ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক লাখ ৬৮ হাজার ১০ জন, এক হাজার ৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ২০ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে বন্যায় যমুনার চরাঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ৭০০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

Advertisement