ব্যাংক কর্মকর্তাকে গণধর্ষণ শেষে বাবাসহ হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৬ জুলাই ২০১৯, ২২:২৪ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯, ২২:২৬

খুলনায় ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও বাবাসহ হত্যার দুই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। ইনসেটে পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী। ছবি : এনটিভি

খুলনায় এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বাবা ইলিয়াছ চৌধুরীসহ শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩ নম্বর ট্রাইব্যুনালের বিচারক মহিদুজ্জামান এই আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন খুলনার লবণচরার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ রোডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০) ও তার ভাই শরিফুল (২৭), লিটন (২৮), আবু সাইদ (২৫) ও আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে শরিফুল ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

লোমহর্ষক জোড়া হত্যার পর দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা ও মরদেহ গুমের চেষ্টা এবং অপরটি গণধর্ষণ।

এদিকে চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামিদের ফাঁসির রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব। তিনি বলেন, এ বিচারের রায়ে আমরা খুশি হয়েছি। সম্পূর্ণ আস্থা ছিল বিচারকের প্রতি। সঠিক রায় পাব এ ধারণা ছিল। সঠিক রায় পেয়েছি।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী সাব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন ও অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা।

অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, পারভীন সুলতানার বাবা ইলিয়াছ চৌধুরীকে হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনের ফাঁসি ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা। একই মামলায় মরদেহ গুমের চেষ্টায় প্রত্যেককে সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও হত্যার মামলায় পাঁচজনের ফাঁসি ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষণের মামলায় ২৮ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩ নম্বর ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি শুরু হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলী গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের সন্দেহভাজনদের।

আসামিদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তারা আদালতে বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কুপ্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন রাতে বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে তারা পাঁচজন। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে পাঁচজন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব পরের দিন লবণচরা থানায় হত্যা মামলা করেন। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরো একটি মামলা করা হয়। ২০১৬ সালের ৯ মে হত্যাকাণ্ডের ও একই বছরের ২৪ মার্চ গণধর্ষণের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী বাবুল ওই পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।