Beta

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ধর্ষণের বিরুদ্ধে পুরুষ সমাজেরও আওয়াজ তোলা উচিত

০৮ জুলাই ২০১৯, ১৬:১২ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভবনে আজ সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন। ছবি : ফোকাস বাংলা

ধর্ষণের বিরুদ্ধে পুরুষ সমাজেরও আওয়াজ তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নেওয়া হবে।

আজ সোমবার বিকেলে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশেও এই জঘন্য ঘটনা ঘটছে। এখন তো মেয়েরা সাহস করে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করছে। একটা সময় ছিল, সাহস করে বলতে পারত না। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নেওয়া হবে। শুধু নারীদের নয়, পুরুষ সমাজকেও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধর্ষণ যেহেতু পুরুষ করে, সেহেতু এটি রোধ করতে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে ধর্ষণের বিরুদ্ধে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণ একটি জঘন্যতম কাজ। যারা এ কাজ করে, তারা মানুষ নয়। ধর্ষণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সদ্যসমাপ্ত চীন সফর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে চীন বলেছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে।

চীন সফরের ফলাফল নিয়ে আজ সোমবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংবাদ সম্মেলনে চীন সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। 

পাঁচ দিনের সফরে গত ১ জুলাই চীনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

রোহিঙ্গারা যাতে শিগগিরই তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য এ সংকটের দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে চীন।

ক্ষমতাসীন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) জানিয়েছে, আপসে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য তারা মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা-সংক্রান্ত নয়টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওসি (লেটার অব এক্সচেঞ্জ) এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি এবং পর্যটন-সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক । এ ছাড়া চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সঙ্গে দুটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা এবং চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনা তিয়েনআনমেন স্কয়ারে হিরোস মেমোরিয়ালে চীনা বিপ্লবের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Advertisement