Beta

রিফাত হত্যায় পুলিশের অবহেলা নেই : ডিআইজি শফিক

২৭ জুন ২০১৯, ১৯:৩৪

বৃহস্পতিবার বরগুনা সরকারি কলেজ এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। ছবি : এনটিভি

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরিফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ হত্যার ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা নেই। যারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার হত্যার ঘটনাস্থল বরগুনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন ডিআইজি শফিক। এ সময় বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন একটি ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের ঘটনা কাঙ্ক্ষিত নয়, এদের আমরা আইনের আওতায় আনবই। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা গেছে। অভিযান চলছে, শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

ডিআইজি বলেন, প্রত্যেকটি লোককে গ্রেপ্তার করে ও আইনের আওতায় এনে আমরা দেখাতে চাই, নৃশংস ঘটনা ঘটালে এর পরিণাম কী ভয়াবহ হতে পারে। তবে একটি বিষয়, আমাদের আরেকটু সচেতন হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হতাম, তাহলে এ ধরনের ঘটনা হয়তো অনেক সময় এড়ানো যায়।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে গতকাল বুধবার সকালে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে তাঁর স্বামী নেয়াজ রিফাত শরিফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে দুই সন্ত্রাসী। নববধূ ও এক যুবক বাধা দিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

হামলার পর শরিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিক তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শরিফের মৃত্যু হয়।

নিহত রিফাত শরিফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে রিফাত। গত মে মাসের শুরুতে বরগুনা সরকারি কলেজের ছাত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিকে বিয়ে করেন রিফাত। এই মিন্নির সঙ্গে হত্যাকারীদের একজন নয়ন বন্ডের বিবাহপূর্ব সম্পর্ক ছিল। নয়ন তার ফেসবুকে মিন্নির সঙ্গে বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি পোস্ট করলে এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, ভিডিওচিত্রে যে দুই সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে জখম করতে দেখা গেছে, তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং অন্যজন রিফাত ফরাজী। তারা উভয়েই স্থানীয়ভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব ঘটনায় একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন বলে বরগুনা থানা সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement