Beta

প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার আসামিরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে : হাইকোর্ট

২৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫১ | আপডেট: ২৭ জুন ২০১৯, ১৯:০০

ইউএনবি
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে গতকাল বুধবার সকালে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে তাঁর স্বামী নেয়াজ রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুই সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড (বাঁয়ে) ও রিফাত ফরাজী। ছবি : সংগৃহীত

বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যার আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে জন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করতে বলেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, এমন ঘটনায় পুলিশের আরো তৎপর হওয়া উচিত ছিল।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরের কলেজ রোড এলাকায় বড় লবণগোলা গ্রামের দুলাল শরিফের ছেলে রিফাত শরিফকে (২৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে একদল যুবক। এ সময় তাঁর স্ত্রী বাধা দিয়েও হামলাকারীদের ঠেকাতে পারেননি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এ ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন।

আদালত তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে যোগাযোগ করে এ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা দুপুর ২টার মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন।

দুপুরে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আদালতকে জানান, বরগুনার ডিসি, এসপি ও সদর থানার ওসি জানিয়েছেন যে এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে ৪ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো মাঠে আছে।

তখন আদালত বলেন, ‘একটি কলেজের সামনে গতকাল দিনদুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ১১টার ঘটনা, অথচ আজ মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ জোরালো মনে হচ্ছে না।’

জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সবাইকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বরগুনার ডিসি, এসপি ও সদর থানার ওসি জানিয়েছেন।

এ সময় আদালত বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যতটা তৎপর হওয়া উচিত ছিল, তা মনে হয় হয়নি। বরগুনার পাশে সুন্দরবন ও তার পাশে সীমান্ত রয়েছে। আসামিরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সে জন্য পুলিশের আইজিপিকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো। আমরা আপাতত কোনো আদেশ বা রুল জারি করছি না। তবে এ মামলায় কোনো অনিয়ম হয় কি না, তা আমরা নজরে রাখব।’

এ পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আদালতকে জানান, নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের নিরাপত্তা দিতে বলা হয়েছে।

পরে আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করে। ওই দিন মামলার অগ্রগতির বিষয়ে শুনানি করা হবে।

Advertisement