Beta

পুলিশের দাবি

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কলেজছাত্রীর গায়ে আগুন দেয় ভাই

২২ জুন ২০১৯, ০৮:৪৬ | আপডেট: ২২ জুন ২০১৯, ১১:২১

নরসিংদীতে গত ১৩ জুন রাতে ফুলন রানী বর্মণের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নরসিংদীর কলেজছাত্রী ফুলন রাণী বর্মণকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ফুলন বর্মণের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজু সূত্রধরের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন এ দাবি করেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ফুলন (২২) নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লার যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। গত বছর নরসিংদীর উদয়ন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। তবে এরপর তিনি আর কোথাও ভর্তি হননি। গত ১৩ জুন রাতে বাড়ির কাছেই তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের ২০ ভাগ পুড়ে গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল, সেদিন রাতে ফুলন এক আত্মীয়ের সঙ্গে দোকানে কেক কিনতে যান। কেক নিয়ে তিনি একাই বাসায় ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে কয়েকজন দুর্বৃত্ত হাত-মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে ফুলনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের  করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফারের নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন সময়ে সঞ্জীব, রাজু সূত্রধর, ভবতোষ ও আনন্দ বর্মণকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে ফুলনের ফুফাত ভাই (পিসির ছেলে) হচ্ছে ভবতোষ। বাকিরা ভবতোষের বন্ধু।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে এই মামলার আসামি রাজু নরসিংদীর বিচারিক হাকিম শারমিন আক্তার পিংকীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার পরই সংবাদ সম্মেলনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।

রাজুর জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘ফুলনের বাবা যোগেন্দ্রর সঙ্গে প্রতিবেশী সুখলাল ও হীরালালের বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সালিশও হয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগে ১১ জুন ভবতোষ ও তাঁর মামির (ফুলনের মা) সঙ্গে প্রতিবেশী সুখলালের ঝগড়া হয়।’

“এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ফুলনের মা বলেন, ‘এখানে থাকব না। দরকার হলে জমি বিক্রি করে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাব।’ ভবতোষও তখন সুখলালকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। মূলত এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ফুলনের ফুফাত ভাই ভবতোষ।”

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ভবতোষের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু ও আনন্দ। ঘটনার দিন ভবতোষ, রাজু ও আনন্দ শহরের বীরপুর রেললাইনে বসে ফুলনের গায়ে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেদিন রাতে দোকান থেকে ফেরার পথে ফুলনের মাথা ও শরীরে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। তারপর ভবতোষ ও আনন্দ একদিকে এবং রাজু অন্যদিকে চলে যান।’

Advertisement