Beta

২০ উপজেলার নির্বাচন চলছে

১৮ জুন ২০১৯, ১০:১২ | আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯, ১৩:০৪

নিজস্ব সংবাদদাতা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপে আজ মঙ্গলবার ২০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগের ধাপগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনিয়ম ঠেকাতে ভোট গ্রহণের জন্য নতুন এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০ উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হচ্ছে। ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম হলেই ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এর আগে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। অধিক সতর্কতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সকালে ভোট গ্রহণের মালামাল পৌঁছানোরও সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের মাঠে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যখন-তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইসি।

ওছমান হারুন মাহমুদ, ফেনী : ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে ইসি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করায় শুধু পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৪২ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৫৯১ জন এবং নারী ভোটার ৬৯ হাজার ৪৮৮ জন। ভোটকেন্দ্র ৫১টি।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছাগলনাইয়া পৌর আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন ও ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এনামুল হক মজুমদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছাগলনাইয়া উপজেলা মহিলা লীগের সেক্রেটারি বিবি জুলেখা, ঢাকা ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক আরমিনা ফেরদৌস আইরিন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী নাসিমা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর : ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলছে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ। মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান পদে দুজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নির্বাচনে একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের ১১৫টি কেন্দ্রের ৬৪৮টি কক্ষে দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫১৫ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৫ জন ও নারী ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৩১ হাজার ১৬০ জন।

মোট ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে এসআই ও পাঁচজন পুলিশ, ১০ জন আনসার মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। পাঁচ প্লাটুন বিজিবিসহ এক হাজার ১০০ জন পুলিশ ও র‍্যাব মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনটি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম ও ১০টি কেন্দ্রের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। যাতে করে নির্বাচনে কেউ কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে, তাকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রয়োজনে সরাসরি গুলি করা হবে।’

এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক নৌমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খানের ভাই ওবায়দুর রহমান কালু খান। দুই হেভিওয়েট নেতার কারণে এ নির্বাচন খুব মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে স্থানীয়রা।

এদিকে মাদারীপুরে রয়েছে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম।

এদিকে, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৭ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দিয়েছে ইসি। হেভিওয়েট দুজন নেতা শাজাহান খান ও বাহাউদ্দিন নাছিম একে অপরকে দুষছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শতভাগ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ : এদিকে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।

রিটার্নিং অফিসার আবুল হোসেন জানান, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ মোট ৪৯ কেন্দ্রে ৭৩৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বকাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

এ ছাড়া টহলে রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মোবাইল টিম এবং পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স সদস্যরা।

উপজেলার ৪৯টি কেন্দ্রে মোট এক লাখ দুই হাজার ৭৪১ জন ভোটার তাঁদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবেন।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ : কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে ১৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৪৬টি কেন্দ্রে এক লাখ ১২ হাজার ৭৭২ জন ভোটার রয়েছেন।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আল আজাদ, মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রশীদ আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ছয়টি ইউনিয়নের ৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ও ১০টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাতজন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ২৬ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় ৫৫৭ জন পুলিশ, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ৪৬টি কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির দায়িত্বে দুজন পুলিশ সুপারসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সাদা পোশাকে ১৬টি গোয়েন্দা টিম পুরো নির্বাচনী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি করছে। নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন্নবী জানান, কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবসহ নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, খুলনা : ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

দুই লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৬ ভোটার ৯৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করবেন। এ উপজেলার ৯৪টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ার (নৌকা), দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী এজাজ আহমেদ (ঘোড়া) ও শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দার (দোয়াত কলম), একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা (আনারস) ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম আকতার স্বপন (হাতুড়ি) রয়েছেন। এ ছাড়া আটজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তিনজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সাত প্লাটুন বিজিবি ও চার প্লাটুন র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছেন।

১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ডুমুরিয়া উপজেলা খুলনা জেলার বৃহত্তর উপজেলা। এ আসনে বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী খান আলী মুনসুর বিজয়ী হয়েছিলেন।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।

গত ৩১ মার্চ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই প্রার্থীর মধ্যে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জেরে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে তিনজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৭ হাজার ৪৯০ ও নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৮৭৩ জন।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১০০ জন বিজিবি, ২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসারসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় কোনো পদেই নির্বাচন হচ্ছে না। এ উপজেলায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

হালিম খান, নাটোর : শান্তিপূর্ণভাবে চলছে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।

ভোট শুরুর পর সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বেশ কম দেখা গেছে। তবে আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচনী কর্মকর্তারা আশা করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়বে।

ভজন দাস, নেত্রকোনা : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্থগিত হয়ে যাওয়া নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সকাল ৯টা থেকে উৎসবমুখর ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।

হিরণপুর সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়, ইসবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

এ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ৭৪টি কেন্দ্রে দুই লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ১০ হাজার ২৯৩ জন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার সদস্যসহ মোট ৯০০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ইসি সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছিলেন, গাজীপুর সদর, নারায়ণগঞ্জের বন্দর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও নোয়াখালী সদরে ইভিএমে ভোট হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। ইসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে আইনের মধ্য থেকে যা যা করা যায়, ইসি তাই করবে।’

এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে জানিয়ে আলমগীর বলেন, ‘নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করাও হয়েছে। কাজেই আশা করি, ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সহিংসতার কারণে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল; কিন্তু তিনি হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আরেকটি উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনকে বদলি করা হয়েছে।

ইভিএম ছাড়া যেসব উপজেলায় ভোট

শেরপুরের নকলা, নাটোরের নলডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, বরগুনার তালতলী, মাদারীপুর সদর, রাজবাড়ী কালুখালী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, রাজশাহীর পবা, নেত্রকোনার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ১০ মার্চ শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ও চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ছয়টি উপজেলায় এবং ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ করে ইসি।

প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এই ভোটে জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি ও শরিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে।

২৫ জুলাই ইভিএমে ২২৮ ইউপি নির্বাচন

আগামী ২৫ জুলাই সারা দেশে ২২৮ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সবকটি ইউপিতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মো. আলমগীর। এ ছাড়া আগামী ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা, ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

Advertisement