Beta

নুসরাত হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে : আইনমন্ত্রী

১৬ জুন ২০১৯, ১৯:৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটরদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তব্য দেন। ছবি : এনটিভি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এই মামলা প্রমাণে প্রসিকিউশনের দেওয়া ৯২ জন সাক্ষীরও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

আজ রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটরদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণে ৪৪ জন প্রসিকিউটর অংশ নেন।

প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন জাতীয় উন্নয়নের বড় অন্তরায়। তাই যারা এসব মামলায় সম্পৃক্ত তারা যেন আন্তরিকতা দিয়ে মামলা পরিচালনা করেন সেই আহ্বান জানাচ্ছি। সময় মতো যাতে প্রসিকিউটররা সাক্ষী হাজির করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করেন সেই আহ্বানও জানান মন্ত্রী।

আনিসুল হক বলেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান পুরুষের সঙ্গে নারীর সম-অধিকার দিলেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া নারীরা প্রায় প্রতিনিয়ত পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হন। আর এই নারী নির্যাতন হচ্ছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয় উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তাই প্রথমবার সরকার গঠন করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই বাধা দূর করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আধুনিকায়ন।

আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগের ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ২৯টি জেলায় আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী জনগণের মনে নতুন করে আশা জেগেছে যে, তারা স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায়বিচার পাবেন। আমার বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমরা তাদের এই নতুন আশা পূরণ করতে সক্ষম হব। আমাদের খুশির খবর হলো, বিগত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে নতুন করে মামলা জট তৈরি হয়নি বরং বিচারাধীন এক হাজার ৮৩১টি মামলা কমেছে। গত দুই বছরের মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন মামলা ছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৮২টি। ২০১৯ সালের একই সময়ে এসে সেখানে বিচারাধীন  মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি।

আনিসুল হক বলেন, আমাদের মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে এবং এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। আমরা কোনো বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাই না। কারণ বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয় এবং তারা নতুন করে অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এতে সমাজের অন্যরাও অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমানহারে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বুঝা যায়। দেখা গেছে, ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসামির সাজা হয়। বাকিরা প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানি, সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ বেড়েই চলেছে এবং সম্প্রতি সমাজের শিক্ষিত লোকের মাধ্যমেই এই ঘৃণিত কাজ বেশি চলছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আধুনিককালে উন্নত বিশ্বে অপরাধ বিজ্ঞান ও উন্নয়ন তত্ত্বের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক অর্থাৎ উন্নয়ন বাড়লে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং উন্নয়ন কম হলে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা বাড়বে- এই সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অপরাধ সমানতালে চলছে। তাই যেকোনো উপায়ে আমাদের অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে।

Advertisement