Beta

চুরির অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণকে মারধর, আটক ১

০৭ জুন ২০১৯, ২২:০৬

মোশাররফকে মারধরের বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার বাড়িতে চোর সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঈদের পরের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

নির্যাতনের শিকার তরুণের নাম মোশাররফ (১৮)। তিনি তাড়াইল উপজেলার সাচাইল ইউনিয়নের শামুকজানি গ্রামের পশু চিকিৎসক কেন্তু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, দুই-তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় মোশাররফকে বাড়িতে আটকে রাখা হতো। কিছুটা সুস্থ হয়ে যাওয়ায় ঈদের দিন থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঈদের পরের দিন সকালে মোশাররফ ভুল করে পাশের পূর্ব দড়ি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান খান শাহানের বাড়িতে ঢুকে যায়। এ সময় ওই বাড়ির লোকজন চোর সন্দেহে তাঁকে ধরে ফেলে।

এরই জের ধরে বাড়ির মালিক মোখলেসুর রহমান খান শাহানের নির্দেশে বাড়ির পাশের একটি মসজিদের সামনে খোলা মাঠে মোশারফকে বেঁধে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে নির্মমভাবে পেটানো হয়। এ সময় মোশারফের দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ওই বাড়ির কেয়ারটেকার সাজ্জাদ হাসান হিটলার বেধড়ক লাঠিপেটা করে নির্মম নির্যাতন চালায়। অন্তত ১০-১৫মিনিট মোশাররফকে মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের যন্ত্রনায় মোশারফের আর্তনাদ ও আহাজারিতেও উপস্থিত কারো মন গলেনি।

মোশাররফকে মারধরের অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন হিটলারকে আটক করা হয়। ছবি : এনটিভি

নির্যাতনের খবর পেয়ে মোশাররফের পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে যান ওই বাড়িতে। তাদের সামনেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে। পরে দুপুরের দিকে মোশাররফের ভাই ও বাবার কাছ থেকে জোর করে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

মোশাররফকে নির্যাতনের ঘটনাটির দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে এর ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। তা পরে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।

ফেসবুকে দেওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে দুপুরে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নির্যাতনকারী সাজ্জাদ হাসান হিটলারকে আটক করে। মামলার পরই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।

নির্যাতনের ঘটনায় তিন জনকে আসামি করে মোশাররফের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান।

Advertisement