Beta

শিশুপার্ক বন্ধ, জানতাম না তো!

০৫ জুন ২০১৯, ১৯:৪৭

শাহবাগে অবস্থিত পুরোনো শহীদ জিয়া শিশু পার্ক। বর্তমানে এটি বন্ধ রয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর থেকে শাহবাগের পুরোনো শহীদ জিয়া শিশু পার্কে ঘুরতে এসেছে শিশু আলিফ (৬)। কিন্তু শিশু পার্ক যে বন্ধ তার বাবা সেটা জানতেন না। এরপর আলিফের কান্না দেখে তার বাবা হুমায়ুন বিপাকে পড়েন।

এমন অনেক শিশুর বাবা-মা না জেনে ওই শিশু পার্কে ঘুরতে আসে। কিন্তু এখন সে শিশু পার্ক খোলা নেই, চলছে নতুন করে আধুনিকায়ন। 

চলতি বছরের প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আত্ততায় শাহবাগ শিশু পার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। সে থেকে শিশু পার্কটি বন্ধ রয়েছে। আর এ কাজ শেষ হতে লাগবে এক বছর। কিন্তু সে তথ্য জানেন না অনেকে। তাই তো না জেনে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে আসে অনেকে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা কবির নামের এক ব্যক্তি বলেন, এবারের ঈদটা একবারের মাটি হয়ে গেলো। ছেলেটাকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম শিশু পার্কে। কিন্তু এসে দেখি পার্কের কোনো অস্তিত্ব নাই। এটা যে বন্ধ এমন ধরনের কোনো তথ্য পত্র-পত্রিকায় পাইনি। বন্ধ জানলে অন্য কোনো বিনোদন পার্কে ছেলেকে নিয়ে যেতাম। এখন আবার নারায়ণগঞ্জ ফিরে যেতে হবে।

কবির জানান, প্রত্যেক বছর ঈদে ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর শিশু পার্কে বেড়াতে আসেন। কিন্তু এবারে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে।

গাবতলী থেকে বেড়াতে আসা তাসফির নামের এক শিশু বলে, ঈদে বাবার সঙ্গে শিশু পার্কে বেড়াতে এসেছি। এখানে আগে অনেক রাইড ছিল। কিন্তু এখন কোনো রাইড নেই, পার্ক নেই।

তাসফিরের বাবা রাকিব জানান, সারা দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে বের হতে পারিনি। বিকেলে আবহাওয়া একটু ভালো হলেই ছেলেকে নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এসে দেখি বন্ধ। এখন ছেলের চেহারার দিকেই তাকানো যাচ্ছে না। ঈদটাই মাটি হয়ে গেছে।

রাকিব বলেন, শিশুদের প্রথম পছন্দ হলো ঢাকার শিশু পার্ক। কিন্তু ঈদের সময় বন্ধ থাকায় রাজধানীবাসী তাদের শিশুকে নিয়ে অনেক বিপাকে পড়বেন। ঈদের আগে সরকারের পার্কটি খুলে দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে শিশু পার্কের ভেতরে দুই একটি রাইড বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। পুরো মাঠে খনন কাজ চলছে। বাইরে শুধু ফুচকা ও আচারের দোকান রয়েছে। শিশুরা ঘুরতে না পারলেও বাইরে বসে ফুচকা আর আচার খাচ্ছে।

আচার ব্যবসায়ী মারুফ হাসান বলেন, এ বছরের প্রথম থেকে শিশু পার্ক বন্ধ আছে। এখনো প্রত্যেকদিন অনেকে না জেনে পার্কে ঘুরতে আসেন। আমরা বাইরে দোকান দিয়ে সংসার চালাতাম। কিন্তু দর্শনার্থী না আসায় আমাদের আয় কমে গেছে। তাই আজকে দোকান নিয়ে বসেছি। যদি আজ কিছু আয় হয়।

Advertisement