Beta

লবণ, তেল ও চিনি খাওয়া নিয়ন্ত্রণের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

২৯ মে ২০১৯, ২৩:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার সচিবালয়ে অসংক্রামক রোগ নিয়ে জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি : এনটিভি

দেশে ক্যানসার, কিডনি, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকসহ অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফল না খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, তামাক সেবন এবং তেল, লবণ ও চিনি বেশি খাওয়াসহ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণ এ জন্য দায়ী। অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড হেলথ মেডিসিন (নিপসম) আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

এ সময় দেশের মানুষকে লবণ, তেল চিনি খাওয়া নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অর্ধেক লোক বাড়তি লবণ খায়, যেটা খাওয়া উচিতই নয়। লবণ, তেল ও চিনি বেশি খায়।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমি আহ্বান করব, এই তিনটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে আনার। দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ধূমপান করে, এটা কমাতে হবে। ধূমপানের কারণে ক্যানসার ও হাইপারটেনশনের মতো নানাবিধ অসুখ হচ্ছে। আমরা ব্যায়াম কম করে থাকি।’

স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে পরিবেশ দূষণের কারণেও অসংক্রামক রোগগুলো হয়ে থাকে। বায়ু দূষণে আমাদের ফুসফুস আক্রান্ত করে। খাদ্য দূষণে আমাদের পেটের পীড়া হয়, ক্যানসার হয়।

মন্ত্রী জানান, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সেবা নির্ধারণে এই জরিপ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার সচিবালয়ে অসংক্রামক রোগ নিয়ে জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গবেষক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। ছবি : এনটিভি

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষের মৃত্যুর কারণ ক্যানসার, কিডনি, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ অসংক্রামক রোগ। এসব রোগের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো দেশে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণ সম্পর্কিত জরিপ করেছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিপসম।

জানানো হয়, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে এসব রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ব্রিফিংয়ে গবেষক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, একটি টেনিস বলের যে সাইজ তা এক সার্ভিং অর্থাৎ একবার খাওয়ার উপযোগী। আর একবারে এক কাপ পরিমাণ সবজিকে এক সার্ভিং বলা যায়। শুধু ফল বা শুধু সবজি অথবা ফল সবজি মিলে দৈনিক প্রত্যেককে পাঁচ সার্ভিং পরিমাণ খেতে হবে। অথচ দেশের ৮৯.৫ শতাংশ নাগরিক এই পরিমাণ ফল সবজি খেতে পায়।

সবজি ও ফল কম খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম কম করা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি থাকা এই ছয়টিকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ঝুঁকিতে ৬০ ভাগ এবং তিন বা তার বেশি ঝুঁকিতে আছে ৪০ ভাগ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিমাপ অনুযায়ী সপ্তাহে দরকারি আড়াই ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম করেন না প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ। আর ৩০ ভাগ মানুষ কখনো রক্তচাপ পরীক্ষাই করাননি।

Advertisement