Beta

মুঠোফোনে পাজেরো পুরস্কারের লোভ, ৫৫ লাখ টাকা গায়েব!

২৮ মে ২০১৯, ২১:১৬

মাসুদ রায়হান পলাশ
মুঠোফোনে প্রতারণা করার অভিযোগে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন। ছবি : সংগৃহীত

দ্বীন মোহাম্মদ (৫০) থাকেন রাজধানীর বনশ্রীতে। ২০১৮ সালের ২২ মার্চ একটি মুঠোফোন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আসিফ ইকবাল পরিচয় দিয়ে দ্বীন মোহাম্মদের মুঠোফোনে কল করেন। পুরস্কারের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আসিফ ইকবাল তাঁকে বলেন, ‘আপনি আমাদের কোম্পানি থেকে লটারিতে প্রথম হয়েছেন। আপনার পুরস্কার একটি পাজেরো গাড়ি।’

তখন আসিফ ইকবাল দ্বীন মোহাম্মদকে জানান, পাজেরো গাড়িটি নিতে হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোনভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদান সেবার মাধ্যমে আপনাকে দুই হাজার ৫৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। এরপর মোহাম্মাদ দুই হাজার ৫৫০ টাকা পাঠালে তখন তাঁকে জানানো হয়, গাড়ি নিতে হলে রেজিস্ট্রেশন বাবদ দিতে হবে ৫৪ হাজার টাকা। তখন মোহাম্মাদ একটি  নম্বরে সেই টাকা পাঠান। ওই দিনই গাড়িটির ভ্যাট বাবদ আরো ১৫ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান তিনি।

২০১৮ সালের ২৪ মে আবারও টাকা দাবি করা হয় দ্বীন মোহাম্মাদের কাছে। এভাবে ২৬ জুন পর্যন্ত চলতে থাকে টাকার দাবি। এই পুরো সময়ের ভেতরে ১২০টি মুঠোফোন নম্বরে সর্বমোট ৫৫ লাখ টাকা পাঠান দ্বীন মোহাম্মাদ। অতিরিক্ত প্রলোভনে দ্বীন মোহাম্মাদ বুঝতেই পারেননি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ৫৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর আর কারো সঙ্গে যোযাযোগ করতে পারছিলেন না দ্বীন মোহাম্মাদ। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি যোগাযোগ করেন ওই মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে।

সেখানে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, সেখানে এই রকম কোনো উপহার ঘোষণা করা হয়নি। তখন মোহাম্মাদ বুঝতে পারেন, প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

এরপর দ্বীন মোহাম্মদ চারজনকে বিবাদী করে ওই বছরের ২৯ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। ওই ঘটনায় মামলার এজাহার দেখে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকসাদুদ জামান। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সিআইডি তদন্তে নেমে জানতে পারেন যে, মুঠোফোনভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদান করা ওই প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটি বেশ সংঘবদ্ধ। চক্রটি মূলত সিমগুলো ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। সিমগুলো রেজিস্ট্রেশন করতে সহায়তা করেছিল ফরিদপুরের চারজন ও গোপালগঞ্জের একজন। ওই পাঁচজনকে গত ২৬ মে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কানিজ ফাতেমার নেতৃত্বে তিনি গ্রেপ্তার করেন।

আকসাদুদ জামান আরো বলেন, শুরুতে মামলার তদন্তে নেমে সুমন নামের একজনকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। দ্বীন মোহাম্মদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা তুলতে তিনি সই করেছিলেন। পাঁচ লাখ টাকাসহ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া শিমুল নামের ওই চক্রের আরো একজনকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সুমন ও শিমুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফরিদপুর সদর উপজেলার মো. ছাব্বির হোসেন (২৩) ও মো. নাসির (২৫), ভাঙ্গা উপজেলার মো. সাগর খান (২০) ও নগরকান্দা উপজেলার কাজী মোর্তুবা (৩৮) এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুমন সাহাকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের আরো লোকজন আছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আরো অভিযান চালানো হবে।’

সিআইডির এসআই আরো বলেন, চক্রটি ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। সিম কোম্পানিগুলো থেকে গ্রাহক (টার্গেট পিপল) পুরস্কার পেয়েছেন বলে প্রলোভন দেখায় চক্রটি। এরপর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে। চক্রের সদস্যরা ভুয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এসব অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করে থাকে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য দ্বীন মোহাম্মাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Advertisement