Beta

জনগণের হৃদয় জয় করুন : জনপ্রতিনিধিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

২৭ মে ২০১৯, ১৮:৩৪ | আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৯:৫৪

বাসস
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা

জনগণের কল্যাণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শুধু ভোটে জয়লাভ করলেই চলবে না, জনগণের হৃদয়ও জয় করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার তাঁর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনস্বার্থে যদি আপনি কাজ করেন, মানুষের হৃদয় যদি আপনি জয় করতে পারেন তাহলে দেখবেন জনগণই আপনার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে এবং আপনাকে তাঁদের সেবা করার সুযোগটা বারবার দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আপনারা তাঁদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন। তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে। রাজনীতিটা যদি ব্যক্তি স্বার্থে হয় তাহলে সে রাজনীতি কখনো জনগণের কল্যাণ করতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ওপর বিরাট দায়িত্ব। তাই মনে রাখতে হবে-জনপ্রতিনিধি হওয়া মানেই জনগণের জন্য, শুধু যারা আপনাকে ভোট দিয়েছে তারা নয়, আপনি এলাকার সব মানুষেরই প্রতিনিধি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী তখন সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দল-মত নির্বিশেষে সবার কল্যাণ করাই আমার দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও সেভাবে নিজেকে মনে করবেন এবং নিজ নিজ দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসন করে নিয়েছে সেটা অব্যাহত থাকবে। আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন এবং আমার তরফ থেকে সব রকম সহযোগিতা আপনারা পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ নতুন সিটি করপোরেশন, এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে, সেটা আপনারা পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

পরে এলজিআরডিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম একইস্থানে সংরক্ষিত ওয়ার্ডসহ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৪৪ জন কাউন্সিলরকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী একরামুল হক টিটু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমেদ তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

গত ৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনের ৩৩টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৯৭ হাজার।

৩৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য প্রায় ২৪২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া ১১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭০ জন।

দেশের ১২তম সিটি করপোরেশন ময়মনসিংহের সিটি নির্বাচনে এবার ভোট প্রদানে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে তাঁর সরকারের আমলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অতীতের তুলনায় কয়েকগুণ বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে এ বছরের বাজেট পেশ করা হবে এবং এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়ন বাজেট যা অতীতে ছিল মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা সেটার আকার দাঁড়াবে এবার প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়নের ছোঁয়াটা কেবল শহরভিত্তিক নয়, একেবারে তৃণমূলপর্যায়ে গ্রামভিত্তিক যেন হয়। আর এবারেও আমরা এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করেছি।’

দেশের বাজেটের ৯০ শতাংশ সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়ন করে থাকে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ময়মনসিংহসহ এই অঞ্চলের মানুষের যেন সার্বিকভাবে কল্যাণ হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন করা হয়েছে।’ কাজেই, তিনি নতুন সিটি করপোরেশনে কাজের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সচেষ্ট থাকার জন্যও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

Advertisement