Beta

রেলের জন্য আধুনিক কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ করুন : প্রধানমন্ত্রী

২৫ মে ২০১৯, ২৩:২৪

ইউএনবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন উদ্বোধন করেন। ছবি : বাসস

ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য আধুনিক যাত্রীবাহী কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তিনি স্থানীয়ভাবে আধুনিক ওয়াগন ও কোচ তৈরিতে সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন।

শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি আন্তনগর ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এদিন উল্লেখ করেন, রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হওয়ায় এখন অনেক মানুষ ভ্রমণের জন্য রেলকে বেছে নিচ্ছেন।

শেখ হাসিনা রেলওয়ের ওয়ার্কশপ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আধুনিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালুর জন্য আরো ওয়াগন ও কোচ যুক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, পদ্মা সেতুতে রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং এটি বরিশাল পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

বরিশাল থেকে পায়রা এবং পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন করার সরকারি পরিকল্পনাও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে রেলওয়ের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করে এবং এ খাতের উন্নয়নে বিপুল কাজ হাতে নেয়।

সরকার দেশের রেলওয়েকে আঞ্চলিকের পাশাপাশি ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁর সরকার সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ৩৪৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন বসানোর পাশাপাশি অনেক নতুন স্টেশন নির্মাণ ও নতুন ট্রেন চালু করেছে।

রেলওয়েতে আরো কর্মী নিয়োগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তিনি রেলওয়ের কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেন।

‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথম যাত্রা শুরু করে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই স্টেশন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেলমন্ত্রী।

ঢাকা থেকে ৫৯৩ কিলোমিটার দূরত্বের এ রুটে ট্রেনটি প্রতিদিন পঞ্চগড় থেকে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছবে। আবার ঢাকা থেকে রাত ১২টা ১০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে পঞ্চগড়ে এসে পৌঁছবে সকাল ৯টা ৪০মিনিটে।

মোট ৮৯৬ আসনের নতুন এ ট্রেনটিতে আনুপাতিক হারে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে ৩০ শতাংশ করে এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ শতাংশ ও পার্বতীপুরে ১৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ সময় গণভবনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি সোয়েমারনো উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement