ফলের বাজার নজরদারি করতে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের নির্দেশ

২০ মে ২০১৯, ১৭:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাসায়নিক ব্যবহার রোধে সারা দেশের ফলের বাজার ও আড়তে নজরদারি করতে পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী সাত দিনের মধ্যে আদেশ পালন করে আগামী ১৮ জুন বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।   

পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের কেমিক্যাল টেস্টিং উইংয়ের পরিচালককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল বাশার।

এ বিষয়ে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল আদালত দুইটা আদেশ দিয়েছিলেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছিল আমবাগানগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ নিয়োগ করা যাতে তারা বেআইনিভাবে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে আম পাকানোর জন্য। আরেকটা নির্দেশ দিয়েছিল চারজন বিবাদীকে যে, ঢাকাসহ সারা দেশের ফলের বাজার ও আড়ৎগুলোতে তদারকি টিম গঠন করতে পর্যবেক্ষণ করা। যাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করে ফল রক্ষণাবেক্ষণ বা ফল পাকাতে না পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু কোনো তারা কোনো প্রতিবেদন না দেওয়ায় আজ আদালতের দৃষ্টিতে এনেছি যে, এটি যদি না করা হয় তাহলে দেখা গেল রাজশাহীর আম বাগানে কেমিক্যাল ব্যবহার করল না, কিন্তু ঢাকা বা ফলের বাজার-আড়তে এনে যদি কেমিক্যাল ব্যবহার করে তাহলে সুফল পাওয়া যাবে না। সে পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের কাছে অবেদন জানালাম আদেশটা যেন কার্যকরী হয়।’

মনজিল মোরসেদ জানান, আজ থেকে সাত দিনের মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ফলের বাজার ও ফলের আড়ত তদারকি টিম গঠন করে মনিটরিং করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে কেউ আম বা ফল পাকাতে বা সংরক্ষণ করতে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে। যদি কেউ করা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আদালত আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। 

গত ৯ এপ্রিল রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানে রাসায়নিক ব্যবহাররোধে সাত দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আদেশে একটি পর্যবেক্ষণ টিম ফলের বাজার ও গুদামে মনিটর করবে যাতে সারা দেশে কেউ রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকাতে না পারে। পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং) এ আদেশ বাস্তবায়ন করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

আবেদনের বিবাদীরা হচ্ছেন- শিল্প সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, খাদ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং এনবিআর চেয়ারম্যান।

ওইদিন মনজিল মোরসেদ আরো বলেন, ‘এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আমবাগানের বিষয়ে সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট রায় দেন। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা দেখছি গত বছরের কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রবণতা। এ কারণে আবেদন করেছি নির্দেশনাটা ফের দেওয়ার জন্য।’