Beta

পাবনায় শিক্ষকের ওপর হামলা, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

১৮ মে ২০১৯, ১৫:৫৭

পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন। ছবি : সংগৃহীত

পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে পাবনা শহর থেকে জুন্নুনকে গ্রেপ্তার  করা হয়। তাঁর বাড়ি পাবনা পৌর শহরের শালগাড়িয়া মহল্লায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুন্নুনকে শহর থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৬ মে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে নকলে বাধা দেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান। এর জের ধরে ১২ মে কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে কলেজের গেটে শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে মারধর করে জুন্নুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ও বহিরাগত। সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই মারধরের দৃশ্য ধরা পড়ে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় মামলার পর ১৬ মে ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের সজল ইসলাম ও পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের শাফিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার হোতা শামসুদ্দিন জুন্নুনকে বাদ দিয়ে মামলা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা।

গত বৃহস্পতিবার শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করেন জেলার চারটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার সব সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।

মানববন্ধনে তিন দিনের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে আগামীতে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষকরা বলেন, স্থানীয় এক নেতার নির্দেশে পুলিশ শিক্ষক মারপিটের ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলা গ্রহণ করেছে।

মানববন্ধন চলাকালে একাধিক শিক্ষক বলেন, রাজনৈতিক চাপে ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম বাদ দিয়ে মামলা করানো হয়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, জুন্নুনই হামলাকারীদের লেলিয়ে দেন এবং পরে তিনি এসে হামলাকারীদের ফিরিয়ে নেন। এটা একটা সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই না।

শিক্ষকরা বলেন, তাদের মান-সম্মান ও ইজ্জত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। যারাই এই মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে, তাদের কাছে শিক্ষকদের অনুরোধ,  তারা যেন সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান না নেয়। সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ নেই, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ফেরানোর জন্য হলেও পাবনাবাসীর অন্তত এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধনে বলা হয়, ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতদের অত্যাচারে শিক্ষকরা অতিষ্ঠ। গত কয়েক বছরে বুলবুল কলেজের কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষক এদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। কেউ বা কলেজ থেকে নীরবে বদলি নিয়ে চলে গেছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বুলবুল কলেজের অভ্যন্তরে ছাত্রীদের কমনরুম দখল করে শামসুদ্দিন জুন্নুন নিজস্ব আড্ডাখানা তৈরি করেছেন। সেখানে দিনরাত চলে মজমা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সব সময় এদের হাতে জিম্মি। তারা কলেজ চলার সময় থেকে রাত অবধি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে নিয়ে আড্ডায় মেতে থাকে। বিষয়টি প্রশাসনকে দেখার অনুরোধও জানান তাঁরা।

মানববন্ধন চলাকালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রব, রাজু আহমেদ, নুরে আলম, কামরুজ্জামান, আতিকুল ইসলাম প্রমুখ শিক্ষক নেতা বক্তব্য দেন।

Advertisement