Beta

সিদ্ধিরগঞ্জে নকল জুস কারখানার সন্ধান, সাত দিন কারাদণ্ড!

১২ মে ২০১৯, ২৩:২৮

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নকল জুস কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল জুস রোববার ধ্বংস করা হয়। ছবি : এনটিভি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নকল জুস কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব। রোববার বিকেলে নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় অবস্থিত সাদিয়া ফুড কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল জুস ধ্বংস করা হয়।

এ সময় ভেজাল জুস উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারখানার ব্যবস্থাপক ও ক্যামিস্টসহ চারজনকে সাত দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে র‍্যাব ১১ কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।  

র‍্যাব ১১-এর মেজর নাজমুস সাকিব জানান, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় মনির হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আলমগীর নামের এক ব্যক্তি নকল ও ভেজাল জুসের কারখানা গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নকল ও ভেজাল জুস তৈরি করে বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানির লেভেল লাগিয়ে বাজারের বিভিন্ন কনফেকশনারি, মনিহারি ও মুদি দোকানে বিক্রি করে আসছে। এসব উৎপাদিত জুসে খাদ্য সম্পর্কিত কোনো উপকরণ ব্যবহার করছে না। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও কাপড়ে ব্যবহার করার রং দিয়ে এসব জুস বানিয়ে তা বোতলজাত করে বাজারে সরবকরাহ করা হচ্ছে। 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নকল জুস কারখানার আটক চারজনকে সাত দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি : এনটিভি

রোববার বিকেল র‍্যাব ১১-এর সদস্যরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নকল জুস কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল নকল জুস ও বিভিন্ন কোম্পানির লেবেল, খালি বোতল, বাজারজাত করার জন্য উৎপাদিত বোতলজাত জুস ও শিশুদের খাওয়ানোর জন্য ছোট ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা পাইপ জুসসহ উৎপাদনের জন্য রাখা কেমিক্যাল জব্দ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল ও নকল জুস উৎপাদনের অভিযোগে সাদিয়া ফুডের ব্যবস্থাপক ও কেমিস্টসহ চারজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ২০ লাখ টাকার ভেজাল জুস ও বিপুল কেমিক্যাল ধ্বংস করা হয়েছে। সাদিয়া ফুড কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এই কারখানার মালিক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে।

Advertisement