Beta

রাজনীতিতে বণিকায়ন করেছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

০৯ মে ২০১৯, ১৯:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। ছবি : পিআইডি

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপিই রাজনীতিতে বণিকায়ন ও দুর্বৃত্তায়নের সূত্রপাত করেছে। সেনা ছাউনির ভেতর থেকে জিয়াউর রহমান অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে বিএনপির জন্ম দেন। তারা সেই ধারাই বজায় রেখে রাজনীতিকে কলুষিত করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী এ সময় প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ছিলেন, বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেছেন, এর কোনো কিছুতেই তাঁর কোনো অহংবোধ প্রকাশ পায়নি। প্রজ্ঞাবান ও বিনয়ী এই মানুষটির জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যা নিয়ে আমরা নিজেদের উন্নত ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’

সমকালীন রাজনীতি প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, একজন স্বীকৃত দুর্বৃত্ত, যার নেতৃত্বে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, যার নেতৃত্বে হাওয়া ভবন চলত, এমন কাউকে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিলে কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারেক রহমানের সেই দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্যই তুলে ধরেন। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সেই বক্তব্যকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ’ বলেছেন। অথচ আসলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে বিএনপি।

বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে- উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান বলেন, সেনা ছাউনির ভেতর থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে বিএনপির জন্ম হয়েছে এবং এরপর রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও মুনাফালোভীদের সমাবেশ ঘটিয়ে দল গঠন করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। এবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল মূলত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। ২০১৩-১৪-১৫ সালে হাজার হাজার মানুষকে পেট্রল বোমায় ঝলসে দিয়েছে, শত শত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এরাই গণতন্ত্রের বড় শত্রু। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তাদের কোনো কথা বলার অধিকার নেই।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে সভায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ড. এনামুল হক, কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, আক্তার হোসেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অরুণা বিশ্বাস, দিনাত জাহান মুন্নী, কামাল চৌধুরী, শেখ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া স্মরণে বক্তব্য দেন।

Advertisement