Beta

সুন্দরবনসংলগ্ন বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

০৩ মে ২০১৯, ০৯:১৬

মোংলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা চিলা ইউনিয়নের প্রায় তিন-চার হাজার বাসিন্দাকে সাতটি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি : এনটিভি

মোংলা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পরও বৃহস্পতিবার দিনে ও রাতে বন্দর ও পৌরশহরের কোনো লোকজনই নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। যার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন তালা ঝুলছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা বলেছেন, লোকজন না আসাতেই আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে না। তাই তালা দেওয়া রয়েছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হচ্ছে না। আজ শুক্রবার সকাল থেকে সব আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে এবং জনসাধারণকে সেখানে পাঠানো হবে।

এদিকে, মোংলার সর্বদক্ষিণের শেষ জনপদ পশুর নদ ও সুন্দরবন লাগোয়া জয়মনিরঘোল এলাকায় নদীর পাড়ে ও সুন্দরবনের পাশে বসবাসরতদের সন্ধ্যার আগেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মোংলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা চিলা ইউনিয়নের প্রায় তিন-চার হাজার বাসিন্দা সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র, জয়মনি ফুড সাইলোসহ বিভিন্ন স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিলা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন।

এ ছাড়া সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা, বিশেষ করে শ্যালা ও কোকিলমনিসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, পৌর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন বিপদ সংকেতের বার্তা প্রচার করে জনসাধারণকে সতর্ক করছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল ও কর্মস্থলে থাকায় বন্দর, উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি এবং প্রচারে আগের তুলনায় লোকজনের মধ্যে অধিক সচেতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বেগে ভারতের ওডিশার পুরি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এরপর সন্ধ্যায় ৬টা নাগাদ বাংলাদেশের খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে।

এ কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ করা হয়েছে। জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement