Beta

‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এফআর টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত’

১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫৩ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। ছবি : এনটিভি

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের আটতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আটতলা থেকে আগুন লেগে আটতলা ও ওপরের নয় ও দশতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধোঁয়ার কারণে ভবনটির ১১, ১২ ও ১৩ তলায় বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ডা. এনামুর রহমান বলেন, এফআর টাওয়ারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আটতলা থেকে দশতলা পর্যন্ত তিনটি ফ্লোর। আর ১১ ও ১২ তলায় ধোঁয়ার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ের অগ্নি দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক সরঞ্জাম নেই। আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া বৈঠকে প্রতিটি ভবনের অনুমোদন দেওয়ার সময় ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়। সেই সঙ্গে পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার হাইড্রেন্ট নির্মাণে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এফআর টাওয়ারে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব ছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘এফআর টাওয়ারে অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিস থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আজ আমাদের বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরাও এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

দেশে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কেনার জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন উল্লেখ করে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের উপকরণের অভাব রয়েছে। আমরা প্রথমে এক হাজার কোটি টাকার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা এবং বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনার পরে আমরা দেখছি এই বাজেটে হবে না। কারণ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভারি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয়। বিশ্বে যে পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়েছে, সেগুলো কিনতে গেলে আরো বড় বাজেটের প্রয়োজন।

এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করা হবে বলেও জানান এনামুর রহমান।

সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষির ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় এবং টর্নেডোতে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার, চাল, টিন ও টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে দেশে দুর্যোগের কারণে যাতে কৃষিতে প্রভাব না পড়ে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় থেকে উদ্ধারের জন্য আমরা ৪২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ৫৫০টি মুজিব কেল্লা তৈরির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২২০টি সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যায় ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

Advertisement