Beta

চবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

১৫ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি অধ্যাপক শাহ আলমের

২৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:২২ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম। ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি নেত্বত্বাধীন সাদা প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে সাধারণ শিক্ষক পরিষদ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম। নির্বাচনে জয়ী হলে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে ১৫ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচন পূর্ববর্তী আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ শিক্ষক পরিষদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, একপেশে ভোটের ও সঠিক নেতৃত্ব তৈরির অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে নমিনেশন পাওয়া কঠিন, জয়ী হয়ে আসা একান্ত সহজ; যার ফলে আস্তে আস্তে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে। মেধাবী ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের প্রাধান্যের কারণে। বারগেইনিং এজেন্ট বা দরকষাকষি সংস্থা হিসেবে এখন আর শিক্ষক সমিতিকে দেখা যায় না।

নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে বিগত দিনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই আমি শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলার জন্য এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি।

সাদা দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাদা দলের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৯ তারিখে সাদা দলের স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি সাধারণ সভায় দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে নেতৃত্বের সংকট দেখা দিচ্ছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর প্রাণবন্ত ও প্রাণোচ্ছ্বল শিক্ষক সমিতি নেই বললেই চলে। বর্তমানে আমার মতে, শিক্ষক সমিতি দুটি কাজ নিয়মিত করছে। এক. কোনো সম্মানিত শিক্ষক বা তাঁর আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া, নবীনবরণ ও বিদায়ী অনুষ্ঠান করা, দুই. বার্ষিক সভা ও ভূড়িভোজের আয়োজন করা।

শাহ আলমের ১৫ দফা প্রতিশ্রুতি হলো

১. অন্যায়ভাবে দিনের পর দিন পদোন্নতি বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো।

২. কোনো বিভাগের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে ফলাফল দিতে দেরি হওয়া এবং পত্রপত্রিকায় নেতিবাচক সংবাদ না হওয়ার ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া।

৩. শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক সেমিনার সিম্পোজিয়ামে যাওয়ার বাধা দূরীকরণে সাহায্য করা।

৪. সদ্য যোগদানকৃত তরুণ শিক্ষকদের জন্য উন্নত মানের থাকা-খাওয়া নিশ্চিত করা ও আরো নতুন ভবন তৈরির দাবিতে সম্মিলিত হওয়া। 

৫. উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে গমনেচ্ছুকদের ছুটি নিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ করা।

৬. প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটা বিভাগের ওয়েবসাইট আপগ্রেড করার ব্যবস্থা করা।

৭. আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৮। জ্ঞানের উদ্ভব ঘটাতে সেমিনার সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা।

৯। আবেদনের তারিখ থেকে প্রমোশন নিশ্চিত করা।

১০। প্রতিবছর সমাবর্তনের ব্যবস্থা করা।

১১। নির্বাচনের সময় সব প্রার্থীকে নিয়ে প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে উন্মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করা।

১২। ঢাকা রেস্ট হাউজকে ঢেলে সাজানোর দাবিতে সোচ্চার হওয়া।

১৩। এসি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি তোলা।

১৪। মুক্ত বুদ্ধি ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য ব্যাপক পরিসরে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

১৫। শহরে একটি সিটি সেন্টার করার দাবিতে ভূমিকা রাখা।   

শাহ আলম বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না সত্য। তবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারব। যারা বঞ্চিত তাদের পাশে দাঁড়াতে পারব। কারণ আমি নিজেও বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছি। তার পরও আমি সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করি এবং শত কষ্টের  মধ্যেও আমি প্রায় প্রতিবারই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।

Advertisement