Beta

ক্রাইস্টচার্চে হামলা

সন্তানের মুখ না দেখেই চলে যাবেন ওমর?

১৭ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫৮ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৯, ১৭:০৫

নারায়ণগঞ্জের রাজবাড়ি এলাকায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত ওমর ফারুকের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছবি : এনটিভি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল-নূর মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় হতাহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুক। তবে, পরিবার তাঁকে সুস্থ অবস্থায় জীবিত ফেরত চায়।

চার বোনের এক ভাই বন্দর উপজেলার রাজবাড়ী এলাকার ওমর ফারুক। পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ২০১৫ সালের শেষে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসার পর একই এলাকার সানজিদা জামান নিহারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ওমরের।

বিয়ের কিছুদিন পর আবার নিউজিল্যান্ডে চলে যান তিনি। গত বছরের ১৬ নভেম্বর ছুটি নিয়ে আবারও দেশে আসেন। কিছুদিন বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড ফিরে যান তিনি। তাঁর স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ওমর ফারুক কী সন্তানের মুখ দেখবেন না?

ওমর ফারুকের নিকটাত্মীয়, ভগ্নিপতির বড় ভাই মোশারফ হোসেন আজ রোববার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ওমর ফারুক পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারে মা, বোন আছে। 

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে আজ রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে ওমর ফারুকের নাম রয়েছে। এ তালিকায় আরো রয়েছেন- মোজাম্মেল হোসেন ও জাকারিয়া ভূঁইয়া। 

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নিউজিল্যান্ড সরকার বাংলাদেশকে জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কাছে তারা মরদেহ হস্তান্তর করবে এবং তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে।

নিখোঁজ ওমর ফারুকের আত্মীয় মোশারফ হোসেন বলেন, ‘হামলার খবর জানার পর ওমর ফারুকের খোঁজ না পেয়ে অনারারি কনসাল শফিকুল রহমান ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি ফোন ধরার পর আমি ওমর ফারুকের ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় উনি আমার পরিচয় চান। পরিচয় দেওয়ার পর উনি বললেন, ওমর ফারুক মিসিং। আর মিসিং মানে উনি এও বলেছেন, বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবেই নেওয়ার জন্য। উনি আমাদের মেন্টালি প্রস্তুত থাকতে বলেন।’

‘এভাবেই চলছিল। পরে আবার ফোন দেওয়ার পর উনি পাসপোর্টের ফোটকপি চাইলে আমি ফটোকপি পাঠাই। পরে সময় টিভিতে জানতে পারলাম, দুজনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে চাঁদপুরের একজন আর নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুক।’

মোশারফ হোসেন আরো বলেন, ‘আমরা দাবি করি, ওমর ফারুকের লাশ যেন আমাদের কাছে ভালোভাবে হস্তান্তর করা হয়। আমাদের তো আর করার কিছু নেই। এই ছেলেটা ফ্যামিলির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর বাবা নেই। শুধু ওমরের টাকায় এই সংসার চলে। তাঁর বোন আছে, মা আছে। তাঁদের কীভাবে হেল্প করা যায়, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেন সেই ব্যবস্থা করেন।’

এ সময় নিহত ওমর ফারুকের তিন বোন বিলাপ করতে করতে বলেন, তাঁদের ভাইকে তাঁরা ফেরত চান। তাঁদের ভাই যেন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

ওমর ফারুক নিউজিল্যান্ডে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করতেন। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৫১ মিনিটে, নিউজিল্যান্ড সময় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে। এরপর ওমর ফারুকের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

এরপর গতকাল রাতে ওমর ফারুকের খবর পাওয়ার পর পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে নিকটাত্মীয়রা তাঁদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসতে থাকেন নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে।

Advertisement