Beta

গণতন্ত্র কখনো একদলীয় হয় না : মাহবুব

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:১১

নিজস্ব সংবাদদাতা
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ফাইল ছবি

গণতন্ত্র কখনো একদলীয় হয় না। বহুদলীয় না হলে গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্র কখনো একদলীয় হয় না। বহুদলীয় না হলে গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে না। এ জন্য নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়টিতে সর্বদা গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া নিতান্তই প্রাথমিক প্রাপ্তি। নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হতে হয়। এ দুটি শব্দের পরিমাপক জনগণ, যাঁরা নির্বাচন করেন, তাঁরা নয়। এই প্রেক্ষাপট মনে রেখে আগামী উপজেলা নির্বাচন যাতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার প্রতি জনগণকে অধিকতর আস্থাশীল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও শুদ্ধ। বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কখনো কাম্য নয়।

‘স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা সকল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন অভিপ্রেত। এ জন্য উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় উপজেলা পরিষদ যেভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা, তা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে অন্য কারো খবরদারি বা নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উপজেলা পরিষদ জেলা পরিষদের অধীন নয়। কথাটা এ জন্য বলছি যে, উপজেলা পরিষদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী না হলে এর নির্বাচনও গুরুত্বহীন হয়ে পড়া স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি ফজলে কবীর প্রদত্ত ২০০৮ সালের রায়টি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পরিষদ পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত রূপ লাভ করবে এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও অধিকতর গৌরবমণ্ডিত হবে।’

জ্যেষ্ঠ এ নির্বাচন কমিশনার কর্মকর্তাদের আরো বলেন, ‘আমরা সবাই বলে থাকি নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে। কথাটার কিছু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। নির্বাচন আইনানুগ হওয়ার অর্থ সবার সমঅধিকার ও সবার প্রতি সমআচরণ নিশ্চিত করা। এ জন্য আপনাদের কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো প্রকার ভয়-ভীতি চাপ, লোভ বা প্রলোভনের কাছে আপনারা নতি স্বীকার করবেন না। নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আপনারা দায়িত্ব পালন করুন। অনেক অপ্রত্যাশিত সমস্যা আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারে। আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই আপনাদের তা মোকাবিলা করতে হবে। আইন কখনো সমস্যা সৃষ্টি করে না, সমাধান দেয়। আইনের ব্যত্যয়ই সকল সমস্যার মূল কারণ। যাঁরা নির্বাচনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা প্রতি পদক্ষেপে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, এটাই প্রত্যাশা।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বর্তমান কমিশনের কার্যকালে অনেকগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব নির্বাচনে আপনার সবাই অংশগ্রহণ করেছেন। এসব নির্বাচনের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে আপনার সম্যক অবিহিত। নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে আত্মবিশ্লেষণমূলক আলোচনা হয়নি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আপনারা সাফল্য ও ব্যর্থতার যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তা থেকে পরবর্তী পর্যায়ের নির্বাচনগুলোর ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। নির্বাচনের ব্যর্থতাই কেবল যাচাই হবে তা নয়, যেসব বিষয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, সেসব বিষয়গুলো যাতে আগামী নির্বাচনগুলোতে অক্ষুণ্ণ ও অব্যাহত থাকে, যাতে হারিয়ে না যায়, সে সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

Advertisement