Beta

শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবছি : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫১

পার্থ সনজয়

নতুন সরকারের গঠিত মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন কে এম খালিদ। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কথা বলেছেন পার্থ সনজয়ের সঙ্গে। জানিয়েছেন, দেশজুড়ে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা রুখতে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর জোর দেবেন তিনি। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্পকলাকে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করবেন। গঠন করতে চান একটি শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয়। আলাপচারিতার চুম্বক অংশ নিচে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন : দায়িত্ব নেয়ার পর আপনার কর্মপরিকল্পনা কী?

কে এম খালিদ : মাত্রই তো দায়িত্ব নিলাম। চাই একটা ভালো মন্ত্রণালয় হোক। গতিশীলতা থাকবে এমন মন্ত্রণালয়। ভালো কাজ যেন করতে পারি। আপনি তো জানেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমাদেরকে হাতছানি দিচ্ছে। তার আগে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এই দুটি বছর মন্ত্রণালয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ। শুধু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একা নয়, সকল মন্ত্রণালয়ই এই লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে নির্দেশনা আছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা এই যে, চলমান যে কাজগুলো আছে এগুলোকে আগে শেষ করা। এরপর প্রায়োরিটি লিস্ট করব, কোন কাজ অগ্রাধিকার পাবে। তারপরই নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করব। এই মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা আগেও ভালো ছিল। আশা করি, ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে।

প্রশ্ন : দেশজুড়ে জঙ্গিবাদ আর সাম্প্রদায়িকতা রুখতে কোন ধরণের সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা আছে কি?

কে এম খালিদ : এ ব্যাপারে এরইমধ্যে একটা ভাবনা ঘুরছে মাথায়। খুব স্বল্প পরিসরে আলোচনা হয়েছে। আপনি হয়তো জানেন, আমি যে পরিবার থেকে এসেছি সে পরিবারটি সংস্কৃতিমনা। আমার বড় দুই ভাই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। একজন মাহফুজ সাজ্জাদ, আরেকজন ম হামিদ। আসলে, সাংস্কৃতিক বিকাশ যদি না ঘটাতে পারি, এটা যদি আমরা বিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে দিতে পারি, সেক্ষেত্রে হয়তো মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যাবে। রোখা যাবে জঙ্গিবাদ।

প্রশ্ন : শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় জাদুঘর—জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল করতে কি কোনো ভাবনা আছে?

কে এম খালিদ : একটা ইনোভেটিভ কিছু করতে না পারলে এ ক্ষেত্রে আমাদের সফলতা আসলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব এ বিষয়ে। একটা শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবছি। এটি যদি করতে পারি, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আমরা যদি পাঠ্যক্রম চালু করতে পারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাহলে হয়তো জঙ্গিবাদ রোধে এটি কার্যকর হতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। তবে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করব। তাদের যে কারিকুলাম তাতে শিল্পকলাকে  অন্তর্ভুক্ত করে একদম প্রথম শ্রেণি থেকে এটি শুরু করব। সেক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। এমনটা আমার পরিকল্পনায় আছে।

প্রশ্ন : তথ্যপ্রযুক্তির যে বিস্তার তার সাথে সংস্কৃতির যে চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলা কীভাবে করবেন?

কে এম খালিদ : এই যে একসময় পাড়া মহল্লায় খেলাঘর, দেয়ালিকা হতো—তা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। ঘরের মধ্যে এখন শৈশব আর কৈশোর। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।

প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রণালয়ের পূর্বসূরী ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। তাঁর জায়গায় আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। কোনো চ্যালেঞ্জ বোধ করছেন?

কে এম খালিদ : আসাদুজ্জাম নূর সাহেবের ব্যাপার তো আলাদা। সারা বাংলাদেশে তিনি অনেক পরিচিত মুখ। সর্বোচ্চ জনপ্রিয় মুখ। যখন তিনি টিভি নাটক অয়োময়, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি নাটকে অভিনয় করেছেন তখন থেকেই তো তিনি সেলিব্রেটি। আমি সেদিক থেকে সেলিব্রেটি না হলেও প্রশাসন চালানোর জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেইটুকু দক্ষতা অর্জন করে এবং আস্থা রেখে প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আসাদুজ্জামান নূর সাকসেসফুল মিনিস্টার।

Advertisement