Beta

‘জনগণের জীবনমান উন্নয়নই আমার লক্ষ্য’

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:৫৭

বাসস
অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : এনটিভি

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সকল দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে প্রতিটি ক্ষেত্রে এ সরকারের সাফল্য কামনা করেছে।

বাংলাদেশে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতগণ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দলের নির্বাচনী বিজয় এবং টানা তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নবগঠিত সরকারকে শুভেচ্ছো জানাতে ওআইসিভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতগণের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে আসেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নই আমার লক্ষ্য, যাতে তাঁরা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষাসহ সকল মৌলিক সুবিধাগুলো পেতে পারে। এর জন্যই আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দানকারী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, ‘আমরা সকল মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ একত্রে গণভবনে এসে আপনার অবিস্মরণীয় বিজয়ে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) শুভেচ্ছা জানাতে পারায় গভীর সম্মানিত বোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শক্তি আসলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শক্তিকেই চিহ্নিত করে। কাজেই আপনাকে সবরকমের সহযোগিতা প্রদান করা একটি মুসলিম দেশ হিসেবে এটা আমাদের প্রত্যেকের এবং সম্মিলিত দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।’

কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিশর, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, তুরষ্ক, কুয়েত, মরক্কো, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত এবং ইরাক, ওমান, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সগণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

রাষ্ট্রদূতগণ তাঁদের বক্তৃতায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়কে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতিফলন বলেই উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, ‘গত ১০ বছরে আপনি যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারই ফলশ্রুতিতে এই বিজয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নবগঠিত সরকারকে শুভেচ্ছো জানাতে ওআইসিভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতগণের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে যান।  ছবি : এনটিভি

তাঁদের মতে বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাঁরা আগামীতে আরো উন্নত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যাশী।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের দেশকে সেরা হিসেবে পেতে চায়, দেশের অগ্রগতি চায়। আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু এদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেতেন তাঁরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।’

রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’জনগণ বুঝেছে যে, আমরা তাদের জন্যই কাজ করি। আর তাই তাঁরা আমাদেরকে ভোট দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের জীবন-মানের উন্নয়নই আমার লক্ষ্য, যাতে তাঁরা খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষাসহ সকল মৌলিক সুবিধাগুলো পেতে পারে। এর জন্যই আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

রাষ্ট্রদূতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারকে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি রাষ্ট্রদূতগণের এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সবসময় সহযোপিতা পেয়ে এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতাই আমাকে আমার জনগণের জন্য বেশি বেশি কাজের শক্তি জোগায়, যাদের জন্য আমি আমার সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছি।’

শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশের জনগণ অতীতে অনেক দুঃখ, কষ্ট সহ্য করেছে এবং তিনি তাঁদের উন্নত জীবন ব্যবস্থা প্রদানের মাধ্যমে এই দুর্দশা ঘোচাতে চান। দেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরী করেও রেখে যেতে চান।

আর এজন্যই দেশের জনগণ বিশেষ করে নারী এবং তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগকে ব্যাপকহারে ভোট প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তাঁর সরকারের প্রতি ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি খুব গর্ব অনুভব করছি। কারণ ভাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এখানে এসেছেন এবং আমাদের সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করে গেছেন। কিন্তু তাঁর কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। আমি সবসময়ই মনে করি এটা (ক্ষমতা) আমার পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমার কাছে একটা সুযোগ এবং সেটাই আমি সর্বান্তকরণে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এটা জেনে খুব খুশী হবে যে, সকল মুসলিম দেশ আমাদের সরকারকে সমর্থন করছে এবং আমরা একযোগে কাজ করবো সমগ্র বিশ্বের মুসলিম ভাইদের অগ্রগতির জন্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ’বাংলদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং প্রত্যেকে শান্তিতে তাঁদের নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারে।’ তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

Advertisement