Beta

সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে পারব না : অলি আহমদ

১০ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫২ | আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ২৩ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে আজ শনিবার সন্ধ্যার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ। ছবি : এনটিভি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও ২৩ দলীয় জোটের।

আজ শনিবার বিকেলে বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক বসে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির প্রায় সব সদস্য অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এরপর সেখানে বৈঠক হয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটের। এতে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ২৩ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অলি আহমদ বলেন, ‘২০ দলের সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব না। আমরা নির্বাচনে যাব কি না, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্যাতন, মিথ্যা মামলা হচ্ছে, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সরকার কথাগুলো দিয়েছিল সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে। এখনো আমরা মনে করি না, সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়েছে। আমরা দেখছি প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা জানাতে পারব না।’

এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছেন, জোটগতভাবে নির্বাচনের আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা বলব, যদি আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি সেক্ষেত্রে অনেকে আমরা নিজস্ব দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করব, অনেকে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

এদিকে ২৩ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে কয়েকজন নেতা এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে আগামী নির্বাচনে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সব দল নিজেদের মতামত দিয়েছে। চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে আরো এক-দুইদিন সময় লাগবে।

কয়েকটি শরিক দল জানিয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তারাও অংশ  নেবে। এছাড়াও নির্বাচনে অংশ নিলে পরবর্তী অবস্থা কেমন হবে আর না নিলে কেমন হবে এসব বিষয়ে সবাই নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।

এছাড়া ২৩ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে অংশ নেবেন জোটের শরিকরা। তবে যাদের দলের নিবন্ধন নেই তাঁরা জোটগতভাবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেবে।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন ২৩ দলীয় জোটের নেতারা। ছবি : নুরুদ্দিন আহমেদ

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৩ দলীয় জোটের বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে ২৩ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বি‌জে‌পির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইসহাক, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নূর হোসেন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুর রকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিকেল ৫টার দিকে বৈঠকে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে দলটি। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেই বৈঠক চলে দুই ঘণ্টাব্যাপী।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement