Beta

খাগড়াছড়িতে এমএন লারমার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

১০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩০

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা এমএন লারমার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক দল জেএসএস। ছবি : এনটিভি

খাগড়াছড়িতে প্রভাত ফেরি, শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও স্মরণসভার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

আজ শনিবার সকালে শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে এমএন লারমার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে জনসংহতি সমিতির নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। পরে তাঁর স্মরণে মহাজনপাড়ায় এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমএন লারমাসহ সশস্ত্র সংগ্রামে নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়।

তুষার চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লারমা সমর্থিত জেএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফুল্ল কুমার চাকমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভূ রঞ্জন চাকমা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, সমাজসেবক রবি শংকর চাকমা, কেন্দ্রীয় যুব সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক দীপু চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সুমেধ চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা জেএসএসের সভাপতি অরাধ্যা পাল খীসা, সাধারণ সম্পাদক সিন্ধু কুমার চাকমা প্রমুখ।

এমএন লারমাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সভায় বক্তারা বলেন, জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামকে ভুলুণ্ঠিত করতে ১৯৮৩ সালে যারা এমএন লারমাকে হত্যা করেছিল তারা এখনো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। এছাড়া বিভিন্ন সময় পার্বত্য এলাকায় এমএন লারমার অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন নেতারা।

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পার্বত্য চুক্তি হলেও এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আক্ষেপ করে চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান জেএসএস নেতারা।  স্মরণ সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আরেক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ অভিহিত করে আইনত তাদের নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান।

সভা শেষে এমএন লারমার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করে বিকেলে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস ওড়ানোর কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়।

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় একটি গোপন আস্তানায় নিজের প্রতিষ্ঠিত শান্তি বাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্যের হাতে খুন হন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। তিনি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার বড় ভাই।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement