Beta

রংপুরে ব্যারিস্টার মইনুলের প্রিজনভ্যানে জুতা ডিম ঝাড়ু নিক্ষেপ

০৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আজ রোববার হেলমেট পরিয়ে কড়া পাহারায় রংপুরের আদালতে হাজির করা হয়। ছবি : এনটিভি

মানহানির মামলায় জামিনের আবেদন শুনানির জন্য আজ রোববার রংপুরের আদালতে আনা হয়েছিল সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনকে। এ সময় আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ ছাড়া ব্যারিস্টার মইনুলকে যে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয়, তাতে ঝাড়ু, জুতা ও ডিম ছুড়ে মারতেও দেখা যায়।

আজ কড়া পুলিশী পাহারায় ব্যারিস্টার মইনুলকে রংপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে নিয়ে গেলে এমন ঘটনা ঘটে।

পরে জামিনের আবেদন শুনানি শেষে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলার ঘটনায় গত ২২ অক্টোবর রংপুর নগরীর মুলাটোলের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কর্মী মিলি মায়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। এই মামলায় মইনুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে ঢাকার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ এ মামলায় হাজিরার তারিখ থাকায় গতকাল ঢাকা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

রংপুরের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে আদালত চত্বরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝাড়ু মিছিল বের করেন। এ ছাড়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তাঁরা ডিম ও জুতা ছুড়ে মারেন।

এর আধা ঘণ্টা পর বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত চত্বরে একটি মিছিল নিয়ে আসেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আজ রোববার হেলমেট পরিয়ে কড়া পাহারায় রংপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি : এনটিভি

আজ আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ রানা, মাহবুবুর রহমান দুলাল, স্থানীয় আইনজীবী আফতাব হোসেন, আবদুল হামিদ বেলালসহ ১০-১৫ জন জামিন আবেদনের শুনানি করেন। আর বাদীপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট শাহাজাদা হোসেন তাতা।

পরে দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নে রেগে যান ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

মইনুলের এ ধরনের বাক্য ব্যবহারে সমালোচনা শুরুর পর তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আদালতে মানহানি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

Advertisement