Beta

সাংসদ মকবুলের বিরুদ্ধে একাট্টা ‘ওরা ১১ জন’

০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৫ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৭

পাবনা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মকবুল হোসেনকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবিতে একাট্টা আওয়ামী লীগের ১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। গতকাল সোমবার বিকেলে চাটমোহর উপজেলার বালুচর খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় এক মঞ্চে তাঁরা। ছবি : এনটিভি

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মকবুল হোসেনকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। ভিন্ন মত থাকার পরও এক দফা দাবিতে এক মঞ্চে দাঁড়ান তাঁরা।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে চাটমোহর উপজেলার বালুচর খেলার মাঠে জনসভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেই সভায় সাংসদ মকবুলকে বাদ দিয়ে যে কাউকে মনোনয়ন দিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে দুবার নির্বাচিত হলেও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। তাঁর কারণে পাবনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর হাতে নৌকা নিরাপদ নয়। শেখ হাসিনার উন্নয়ন পাবনা-৩ আসনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাই বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেনকে পরিবর্তন করে নতুন কোনো প্রার্থীকে নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দিতে দলীয় প্রধানের কাছে দাবি জানান নেতারা।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা-৩ আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখোওয়াত হোসেন সাখো। বক্তব্য দেন একই আসনে নৌকার আরো ১০ মনোনয়নপ্রত্যাশী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল আলীম, মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আ স ম আবদুর রহিম পাকন, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. বাকি বিল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আমির হোসেন, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গোলজার হোসেন ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রধান। এ ছাড়া চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মালেক ও জেলা পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিনও বক্তব্য দেন।

সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুচর খেলার মাঠে জনসভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ছবি : এনটিভি

জনসভায় চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মো. আবুল কালাম আজাদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামীম হোসেন, যুবলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, মূলগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী মাস্টার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লালন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল বিশ্বাস, গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. রজব আলী বাবলু, ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল অহেদ, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শমসের আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে পৌর মেয়র গোলাম হাসনায়েত রাসেলের দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা অনিয়মের কথা বলেন। এ সময় বক্তারা পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মকবুল ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলে তাঁর পক্ষে সবাই কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখোওয়াত হোসেন সাখো জনসভায় বলেন, ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ও হাদল গণহত্যার অন্যতম নায়ক বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেনের বাবা মরহুম হাজি মহসিন। তিনি আওয়ামীবিরোধী পরিবারের সন্তান।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার বলেন, সাংসদ মকবুল আওয়ামী লীগের লোককে গুরুত্ব দেন না। তিনি জামায়াত-বিএনপির লোক নিয়ে রাজনীতি করছেন। তাঁরা আজ দলের বড় বড় নেতা বলে পরিচয় দেন।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনা-৩ আসনের সাংসদ মকবুল হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা একাট্টা হয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন এবং ধিক্কৃত। তাঁরা আওয়ামী লীগের নামে ‘পেটলীগ’ করেন।

সাংসদ মকবুল আরো বলেন, “আমার বাবা এই অঞ্চলের সত্যিকারের ‘হাজি মুহসীন’ ছিলেন। তাঁকে নিয়ে মিথ্যাচার করা অন্যায়।” তিনি বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে বিভেদকারীদের কেন্দ্র ক্ষমা করবে না।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement