Beta

শিবচরে নদী ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি, স্কুল, স্থাপনা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৪ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৫

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ভেঙে পড়ছে স্কুলভবন। ছবি : এনটিভি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় গত দেড় মাসে ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি, চারটি স্কুল, একটি বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, ব্রিজ-কালভার্ট, পাকা সড়ক বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে।

জেলার শিবচর উপজেলার আটটি ইউনিয়নসহ সদর ও কালকিনি উপজেলার বৃহৎ এলাকা পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদ সংলগ্ন। প্রতিবছরই উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও বর্ষার পানি দুই কুল বেয়ে উপচে পড়লে, বিশেষ করে, শিবচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেয়।  চলতি বছরের আগস্টের শুরু থেকে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিবচরের চরাঞ্চলের চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঠালবাড়ি ইউনিয়নে নদী ভাঙন দেখা দেয়। গত তিন-চার দিন ভাঙন আরো প্রকট রূপ নিয়েছে। দেড় মাসে পদ্মার চরাঞ্চলের ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি, একটি হাইস্কুলসহ চারটি স্কুল ভবন বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এই সময়েই চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, ব্রিজ-কালভার্ট, পাকা সড়ক, হাট বাজার বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় ভবনসহ স্থাপনা সরানোও সম্ভব হয়নি। এখনো হুমকিতে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার, একাধিক স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শত শত বাড়িঘর। ২০১৭ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনে চরাঞ্চলের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছিল। ২০১৬ সালে নদী ভাঙনে শুধু এ উপজেলায় আক্রান্ত হয় অন্তত ৫০০ ঘরবাড়ি, দুটি স্কুল, ভেঙে যায় একটি নদীশাসন বাঁধ। ২০১৫ সালে  নদী ভাঙনের কবলে এ উপজেলার প্রায় ১১০০ পরিবার হয়েছে গৃহহীন।

শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মালেক তালুকদার নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভাঙনের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আরো ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ নদী ভাঙন প্রতিরোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইউএনও কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, মাদারীপুরের চার উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের আগ্রাসনে গত ১০ বছরে সাত-আট হাজার পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। শিবচর উপজেলাতেই বিপুলসংখ্যক জনবসতি ছাড়াও ১৭টি স্কুল,  ছয়-সাতটি হাটবাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রাস্তাঘাট ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

Advertisement