শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় পাঁচজনের নামে অভিযোগপত্র

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৫

২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আবির রহমান নামের এক জঙ্গি। ছবি : এনটিভি

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা মামলার আটক পাঁচজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৩ জনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ১৮ আসামি নিহত হয়। বাকি পাঁচজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা পাঁচ আসামি হলেন কিশোরগঞ্জের তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ও পান্থপাড়া এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাদিপুর গ্রামের সবুর খান হাসান।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের অদূরে আজিম উদ্দিন হাইস্কুলের পাশে পুলিশ সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলায় পুলিশের দুই সদস্য এবং বাড়ির ভেতরে থাকা এক গৃহবধূ নিহত হন।  এ সময় পুলিশের গুলিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আবির রহমান নামের এক হামলাকারী জঙ্গি নিহত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষে আট পুলিশ সদস্যসহ তিন পথচারী গুরুতর আহত হন।

ঈদের দিন জঙ্গি হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে শফিউল ইসলাম ওরফে শরীফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলাম ও জাহিদুল হক ওরফে তানিম নামে দুই জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ।  গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত শফিউলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার ২৭ দিন পর ৪ আগস্ট ময়মনসিংহে চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ ফিরিয়ে আনার সময় রাত ১১টার দিকে একদল সন্ত্রাসী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ঘোষপালা এলাকায় র‌্যাবের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি শফিউল ও অজ্ঞাত পরিচয়ের হামলাকারী নিহত হয় বলে র‌্যাব জানায়।

শফিউল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারের আবদুল হাইয়ের ছেলে।  

হামলার ঘটনার তিন দিন পর ১০ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয়টি ধারায় ঘটনাস্থল থেকে আটক দুজনসহ অজ্ঞাত সংখ্যককে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সামছুদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আজ বিকেলে জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান।