ঢাকায় ‘ইথিওপিয়ান গাঁজা’, বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪৬

বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি করে নিয়ে আসা হচ্ছে এই মাদক। প্যাকেটের গায়ে আমদানি ও রপ্তানিকারকের নাম-ঠিকানাও উল্লেখ করা হচ্ছে। ইথিওপিয়া থেকে নিয়ে আসা এই মাদকের নাম ‘এনপিএস’। ইথিওপিয়ানরা এটিকে খাত/খাটপাতা বলে।

ইথিওপিয়ান এই গাঁজার বড় একটি চালান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম আটক হয় গত ৩১ আগস্ট। চালানটি ইথিওপিয়া থেকে বাংলাদেশে পাঠান জিয়াদ মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক রপ্তানিকারক। ওই দিন শাহজালাল ছাড়াও শান্তিনগর থেকে ৮৬১ কেজি ওজনের মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর একই মাদকের ১৬০ কেজি ওজনের আরেকটি চালান জব্দ করে কাস্টমস হাউস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই চালানও ইথিওপিয়া থেকে জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ ঢাকায় পাঠান। নাওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইথিওপিয়া থেকে চালানটি পাঠানো হয়।

এদিকে, প্রথমে আসা তিনটি চালান ধরা পড়ার পরও আরো একটি এনপিএসের চালান পাঠানো হয় গত সোমবার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চালানটি জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের ১৪০ কেজি এনপিএস বা ইথিওপিয়ান গাঁজা পাওয়া যায় এই চালানে। তবে এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের উপপরিচালক অথেলো চৌধুরী জানান, একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় ভারত থেকে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (নং-৯ ডব্লিউ২৭৬) আসা আটটি সন্দেহজনক কার্টন জব্দ করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কার্টনগুলো খুলে ভেতর থেকে গ্রিন টির মতো দেখতে ওই মাদকগুলো জব্দ করা হয়। এটি মূলত ইথিওপিয়ান ‘গাঁজা’ বা ‘খাত’ বা নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস)।

অথেলো চৌধুরী বলেন, ‘এটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয়। এটি বাংলাদেশে আনা নতুন এক ধরনের মাদক।’

অথেলো চৌধুরী জানান, ইথিওপিয়ার জিয়াদ মোহাম্মদ ইউসুফ মাদকের কার্টনগুলোর রপ্তানিকারক। এটি আমদানি করেছে তুরাগের বাদলদীর ২ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত এশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খোরশিদ আলম জানান, এনপিএসের চালানটি কয়েক দিন আগে ইথিওপিয়া থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এনপিএস অনেকটা চায়ের পাতার মতো দেখতে। পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে এটি সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে অনেকটা ইয়াবার মতোই এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এক ধরনের গাছ থেকে এনপিএস তৈরি করা হয়।

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও ফিজিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসক শাফি উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি পানিতে মিশিয়ে সেবন করতে হয়। যে কারণে হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুসে খুব সহজেই প্রবেশ করে। নিয়মিত সেবনে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।’