Beta

বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভ্যান চালায় স্কুলছাত্র

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২০

ভ্যান চালিয়ে বাবার চিকিৎসার খরচ জোগায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার স্কুলছাত্র মুরাদ। ছবি : এনটিভি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় দুর্ঘটনায় আহত পঙ্গু বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভ্যান চালানোর কাজ বেছে নিয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। উপজেলার মণ্ডতোষ ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামের ওই ছাত্রের নাম মুরাদ। স্থানীয় প্রিজম স্কুলে পড়াশোনা করা মুরাদ প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই বেরিয়ে পড়ে ভ্যান নিয়ে।

জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভাঙার পর থেকেই শয্যাশায়ী পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মুরাদের বাবা আবদুল জলিল (৩৫)। এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ভালো হতে আরো ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। এর মাঝেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিটামাটি ছাড়া বাদবাকি যা সহায়-সম্বল সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে মুরাদের পরিবার।

এদিকে সংসার খরচের বাইরেও প্রতিদিন ৪৫০ টাকার ওষুধ কিনতে হয় জলিলের জন্য। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী জলিল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকায় সংসার ও চিকিৎসার খরচ চালানোর দায়িত্ব পুরোটাই কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে মুরাদকে। ফলে শেষ পর্যন্ত সে বেছে নিয়েছে ভ্যান চালানোর কাজ।

মুরাদের অসুস্থ বাবা আবদুল জলিল। ছবি : এনটিভি

মুরাদ জানায়, বৃহস্পতিবার কম ক্লাস থাকায় ওই দিন সে স্কুলে যায় না। এ ছাড়া প্রতিদিন স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বেরিয়ে পড়ে ভ্যান নিয়ে। দিন শেষে যা আয় হয় বাবার জন্য ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরে। এ বয়সে ভ্যান চালাতে কষ্ট হলেও সে নিরুপায়।

মুরাদের বাবা শয্যাশায়ী আবদুল জলিল জানান, গত ১৫ মার্চ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে জালেশ্বর গ্রামের কাছে ধানমাড়াই মেশিনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তাঁর ডান পা ভয়ঙ্করভাবে ভেঙে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার ভিশন আই হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল বারীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে তাঁকে ঢাকায় যেতে হয়। 

মুরাদের মা মর্জিনা খাতুন জানান, আত্মীয়স্বজনের কাছে তিন লাখ টাকা দেনা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় ও সংসারের খরচ চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মর্জিনা। এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement