Beta

বিশ্ব রেকর্ড গড়তে মুক্তিযোদ্ধার ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতার শুরু

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৭

আজ সোমবার সকালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের ভোগাই ব্রিজের কাছ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতার শুরু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। ছবি : এনটিভি

১৮৫ কিলোমিটার সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে সাঁতার শুরু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। আজ সোমবার সকালে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের ভোগাই ব্রিজের কাছ থেকে সাঁতার শুরু করেন জাতীয় রেকর্ডধারী ৬৭ বছর বয়সী এই সাঁতারু।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৬ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ১৪৬ কিলোমিটার নদীপথে সাঁতার কেটেছিলেন তিনি। এবার ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেই রেকর্ড ভাঙতে চান, গড়তে চান বিশ্ব রেকর্ড।

নালিতাবাড়ী পৌরসভা ও নেত্রকোনার মদন উপজেলার নাগরিক কমিটি এবার যৌথভাবে দূরপাল্লার ব্যতিক্রমী সাঁতারের আয়োজন করেছে।

এমন সাঁতারের আয়োজনের কথা শুনে সকাল থেকে ভোগাই নদীর পারে ভিড় জমায় বিপুল মানুষ। এরই মধ্যে নালিতাবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান দূরপাল্লার এই ব্যতিক্রমী সাঁতারের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ভোগাই ব্রিজ থেকে কংশ নদী হয়ে নেত্রকোনা জেলার মদন পৌর শহরের মগড়া নদীর দেওয়ান বাজার ঘাট এলাকায় গিয়ে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের এই সাঁতার শেষ হবে। আয়োজকদের ধারণা, ৫৫ ঘণ্টার মতো হতে পারে এই সাঁতারের সময়কাল।

এর আগে এই কৃতী সাঁতারু ১৯৭২ সালে সিলেটের রামকৃষ্ণ মিশন পুকুরে ৩৪ ঘণ্টা, সুনামগঞ্জের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৪৩ ঘণ্টা, ১৯৭৩ সালে ছাতক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৬০ ঘণ্টা, সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরে ৮২ ঘণ্টা এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট সাঁতার প্রদর্শন করে জাতীয় রেকর্ড গড়েন।

সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অবসরপ্রাপ্ত এএনএস কনসালট্যান্ট ছিলেন তিনি। সিলেটে ১৯৭০ সালে ধূপদীঘি পুকুরে অরুণ কুমার নন্দীর ৩০ ঘণ্টার বিরতিহীন সাঁতার দেখে তিনি সাঁতারে উদ্বুদ্ধ হন। শুরু করেন সাঁতার অনুশীলন। পরে ওই বছরেই মদনের জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে একটানা ১৫ ঘণ্টা সাঁতরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হন।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য বলেন, জগন্নাথ হলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট সাঁতার কেটে জাতীয় রেকর্ড গড়ার পর সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে ডাকসুর উদ্যোগে বিজয় মিছিল বের করা হয়। বঙ্গবন্ধু সাঁতারের কৃতিত্বের জন্য তাঁকে গণভবনে ডেকে রূপার নৌকাও উপহার দিয়েছিলেন।

কৃতী এই সাঁতারু এরপর ১৯৭৬ সালে জগন্নাথ হলের পুকুরে ১০৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতরে নিজের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জগন্নাথ হলের পুকুর পাড়ে একটি স্মারক ফলক নির্মাণ করে।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য বলেন, ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৬ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ১৪৬ কিলোমিটার নদীপথে সাঁতার কেটেছিলেন তিনি। এবার ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেই রেকর্ডও ভাঙতে চান। 

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য বলেন, ‘এটাই আমার শেষ সাঁতার। আমি ৬৪ বছর বয়সী মার্কিন সাঁতারু ডায়ানা নায়াদের কিউবা থেকে ফ্লোরিডার ১৭৭ কিলোমিটার সাঁতারের রেকর্ড ভাঙার জন্যই এই সাঁতার শুরু করতে যাচ্ছি। এই সাঁতারের মাধ্যমে গিনেস বুক অব রেকর্ডে আমি আমার ও দেশের নাম উঠাতে চাচ্ছি।’

কৃতী এই সাঁতারুর এবারের সাঁতারের গতিপথে আয়োজক কমিটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য লোকসহ তিনটি ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা, একটি বড় ডিঙি নৌকা, একটি স্পিডবোট, চিকিৎসক, তরল জাতীয় খাবার, নৌকায় গান-বাজনাসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement