Beta

সৌদি থেকে আসার পরদিন পেলেন সন্তানের লাশ

১৬ আগস্ট ২০১৮, ২৩:২৪ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩১

নারায়ণগঞ্জে ছোট সন্তান আলিফের মৃতদেহ জড়িয়ে বাবা আলমগীরের আহাজারি। ছবি : এনটিভি

সৌদি আরব থেকে বুধবার নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকার বাড়িতে আসেন আলমগীর। এসেই সন্তানদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলতে পারেননি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চার বছর বয়সী ছোট ছেলে শিহাব উদ্দিন আলিফের একটি চুমু পেয়েছিলেন। এরপর খেলতে বাইরে চলে যায় ছেলে। সেই যে ছেলে গেল, আর কখনো ফিরবে না সে।

প্রিয় সন্তানের লাশ পেয়েছেন আলমগীর। ছোট্ট শিশুটির হাত বেঁধে ও মুখে কাপড় গুজে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সন্তানের মৃতদেহ দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আলমগীর। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, আলিফ আর বেঁচে নেই। এরপর থেকে অঝোরে কাঁদছেন আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আলিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত আলিফের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনের উঠানে খেলা করছিল আলিফ। ওই সময় থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মিলে আশেপাশের বাড়িঘর ও পাড়ামহল্লায় খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বিকেলে প্রতিবেশী খোকনের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটের তালাবদ্ধ রুম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে আলিফের লাশ পাওয়া যায়। এ সময় আলিফের দুই হাত বাঁধা ও মুখে রুমাল গুঁজে দেওয়া ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে।

এক মাস আগে সম্রাট ও শহীদ নামের দুই যুবক রাজমিস্ত্রীর পরিচয় দিয়ে প্রতিবেশী খোকনের বাড়ির নিচতলার একটি রুম ভাড়া নেন। তাদের রুমের তালা ভেঙেই আলিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে।

আলিফের বাবা আলমগীর বলেন, ‘সকালে ঘুমাইয়া ছিলাম। ১০টার দিকে উঠছি। উঠার পরে ও (আলিফ) বাইরে গেছে। এরপর আইসা আমাকে একটা পাপ্পি দিছে। পাপ্পি দিয়া আবার চইলা গেছে। এই চলার ভিতরে ১১টার দিকে আমি একটু ব্যাংকে গেছিলাম। সেখানে বাড়ির লোকজন আমাকে কল দেয়, আলিফরে পাইতেছে না। পরে হুনি আমার পাশের রুমে আলিফরে মাইরা রাখছে। কে রাখছে, দুই পোলায়। একটা পোলারে ধরছে। আরেকটা পলাইয়া গেছে।’

সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমি বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইডাই চামু আমার মতো আর যেন কোনো বাপ-মা সন্তানহারা না হয়। আমি খুনিদের মৃত্যুদণ্ড চাই।’

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, বাচ্চাটি একটি পলিথিনে ভরা ছিল। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement