Beta

মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ, সাত বরযাত্রী নিহত

১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৫

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। ছবি : এনটিভি

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিবপুরের সোনাইমুড়ি টিলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলো প্রান্তিকা রাণী বর্মণ (৬), স্নিগ্ধা রাণী বর্মণ (৫), বৃষ্টি রাণী বর্মণ (৬), সজল বর্মণ (২০), শুভ বর্মণ (৩০), সৌরভ বর্মণ (১২) ও ক্যামেরাম্যান সজল বর্মণ (২৫)। হতাহতরা সবাই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মিতালী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-২০০৩) ঢাকা থেকে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের সোনাইমুড়ি টিলা এলাকায় পৌঁছালে বাসের সামনের চাকা ফেটে যায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো চ ১৩-৮৫৩৫) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসে থাকা স্নিগ্ধা রাণী বর্মণ, প্রান্তিকা রাণী বর্মণ ও বৃষ্টি রাণী বর্মণ নামের তিন শিশু মারা যায়। বর-কনেসহ বাস ও মাইক্রোবাসের আরো ২১ যাত্রী আহত হন।

স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল বর্মণ নামের আরেকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় ১৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে পথে আরো তিনজন শুভ বর্মণ, সৌরভ বর্মণ ও সজল বর্মণের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। আর এ কারণেই মাইক্রোবাসের যাত্রীরা বেশি হতাহত হয়। অপরদিকে যাত্রীবাহী বাস মিতালী পরিবহনের সামনের বাঁ পাশের চাকাটি ফেটে গেছে। আর বাসের সামনের কিছুটা অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হতাহতদের মাইক্রোবাস থেকে বের করে মহাসড়কের পাশে রাখে। ওই সময় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে দুর্ঘটনায় আহত স্বজনরা।

বরপক্ষের স্বজন লক্ষ্মণ বর্মণ জানান, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল গ্রাম থেকে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নবোয়ারচর গ্রামে এসেছিল। রাতে বিয়ে শেষে সকালে কনেসহ গাড়িটি ফিরে যাচ্ছিল। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, মিতালী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটির সামনের চাকা ফেটে গেলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাসটিকে আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement