Beta

ভৈরবে ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

২৯ জুলাই ২০১৮, ২২:০২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফলদ বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আজ রোববার শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি : ফোকাস বাংলা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষমেলা। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. গিয়াস উদ্দিন। উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মেলা উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে মেলা চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাজী ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, গাছ শুধু যে ফল দেয় তা নয়, একটি ফলদ গাছ পরিবারের সদস্যদের জন্য পুষ্টি এবং অর্থও জোগান দেয়। একটি গাছ একটি পরিবারে বিপদের সঙ্গী। বিপদে গাছটি বন্ধক রেখে সহজেই অর্থ গ্রহণ করা যায়। তিনি প্রতিটি বাড়িতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমাহার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

‘অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা’ এই বিষয়কে প্রতিপাদ্য করে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন প্রধান মেলার উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা সবার সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি এ বর্ষা মৌসুমে প্রত্যেকের বাড়ির আঙিনাসহ খালি জায়গায় দুটি করে ফলদ ও একটি করে বনজ গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার পাল বলেন, দেশীয় ফল মানুষের অপরিহার্য পুষ্টির জোগানদাতা, কেবল মাছ-মাংস খেলেই শরীর ঠিক থাকবে, তা নয়। শরীর সুগঠনে ফলও খেতে হবে। তিনি এ সময় গাছের চারা রোপণে আরো সচেষ্ট হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশ আসলেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এর মাঝে কৃষিতে আমাদের অগ্রগতিটা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা ইতিমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন আমরা ফলেও সাফল্যের পথে। আমরা এখন নিজেদের চাহিদা পূরণের পর ফল রপ্তানি করছি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে একদিন এই খাতও দেশের বৈদেশিক আয়ের একটি অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি এ সময় বাড়ির আঙিনাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের খালি জায়গায় বেশি করে ফলের চারা রোপণের আহ্বান জানান।

পরে আলোচনা শেষে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ঘোষণা করেন অতিথিরা। তাঁরা মেলা চত্বরের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং নার্সারি মালিকদের সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তিন দিনব্যাপী চলা এই মেলায় এবার ২১টি স্টল বসেছে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলায় ক্রেতা আকৃষ্ট করতে কৃষি বিভাগ এবং উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হবে।

ক্রেতা সমাগম বেশি হলে মেলার সময় বৃদ্ধি করা হতে পারে। বেশি গাছ বিক্রি করা নার্সারি মালিককে প্রতি বছরের মতো এবারও পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে বিভিন্ন পণ্য ও সনদপত্র। এ ছাড়া এবার উপজেলা কৃষি বিভাগের অর্থায়নে ১৫ হাজার ফলদ গাছের চারা স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement