Beta

হামলার পর পালাতে গিয়ে সাপের দংশনে একজনের মৃত্যু

১৬ মে ২০১৮, ২২:৪২ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৮, ২২:৪৪

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আলী আকবর বেপারীর ঘর। ছবি : এনটিভি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জাজিরার বিলাশপুর মুলাই বেপারীকান্দির অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দেখে জঙ্গল দিয়ে পালানোর সময় সাপের দংশনে আলী আজগর সরদার নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, আলী আজগর ভাঙচুর ও লুটপাট করতে যাননি। তিনি ভাঙচুর না করার পরামর্শ দিতে গিয়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত সোবহান বেপারী, মজিবর বেপারীর স্ত্রী সালেহা বেগম ও জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দস বেপারীর সঙ্গে গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হাজি আবু তাহের সরদার এবং তাঁর সমর্থক জলিল মাদবর ও ফারুক হাওলাদার পক্ষের সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি আবু তাহের সরদারের সমর্থক বিলাশপুর মুলাই বেপারীকান্দির ফারুক হাওলাদার ও জলিল মাদবরের নির্দেশে আলী আজগর সরদার, নুরুজ্জামান সরদার, সাত্তার মোল্যা, শ্যামল সরদার, আমজেদ সিকদারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন মিলে সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থক মুলাই বেপারীকান্দির মজিবুর বেপারী, সোবহান বেপারী, আলী আকবর বেপারী, আমিনুদ্দিন সরদার, আজিজুল সরদার, গফুর সরদারের বাড়িঘরসহ অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন বাধা দিলে তাদের শিশু সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় হামলাকারীরা। এতে ভয়ে কেউ প্রতিহত করার চেষ্টা করেনি। এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গফুর সরদারের বাড়ি ভাঙচুরের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মুলাই বেপারীকান্দির নুরু সরদারের ছেলে আলী আজগর সরদারকে (৪০) বিষধর একটি সাপ দংশন করে। পরে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই সিরাজ সরদার বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদারের লোক ফারুক হাওলাদার ও জলিল মাদবর পক্ষের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দস বেপারীর বিরোধ রয়েছে। গতকাল রাতে একপক্ষ অপরপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। এ সময় আমার ভাই আলী আজগর সরদার বাড়ি ভাঙচুর করতে যাননি। তিনি ভাঙচুর থামাতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁকে সাপে কামড় দিয়েছে। শরীয়তপুর হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গফুর সরদারের মেয়ে মৌসুমী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর করার সময় পুলিশ ধাওয়া দেয়। তখন পালানোর সময় আলী আজগরকে সাপে কামড় দেয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিলাশপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বেপারী বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁর সমর্থকরা কোনো কারণ ছাড়াই আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।’

বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি আবু তাহের সরদার বলেন, ‘আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। ইউনিয়নের সবাই আমার সমর্থক। আমার কোনো পক্ষ-বিপক্ষ নেই। সাবেক চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। তিনি আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাঁর সঙ্গেও আমার কোনো বিরোধ নেই।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, ‘এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বুধবার রাতে ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এ ঘটনায় মামলা দিতে বলেছি। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement