Beta

‘শত কথার শত গল্পের’ লেখকরা পুরস্কৃত

১১ মে ২০১৮, ১৫:৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরস্কৃত করা হলো ১০০ শব্দের ১০০টি অনুগল্পের সংকলন ‘শত কথার শত গল্পে’র লেখকদের। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন ‘মুক্ত আসর’ আয়োজন করে লেখক আড্ডা ও সেরা লেখক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মুক্ত আসর স্বপ্ন-৭১’ প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় ‘১০০ শব্দে গল্প লেখা প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করেছিল। 

দুই বাংলার ১৮৩ জন লেখক ১০০ শব্দের মধ্যে অনুগল্প লিখেন। এর থেকে ১০০টি অনুগল্প বাছাই করে প্রকাশ করা হয় গল্পসংকলন ‘শত কথার শত গল্প’।

এই সংকলনের সাতটি গল্পকে সেরা গল্প হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। আর এর লেখকদের আজ পুরস্কৃতও করা হলো।

অনুষ্ঠানে ‘শত কথার শত গল্প’ বইয়ের লেখকরাসহ উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক-সাহিত্যিকরাও।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক শওকত আলী ও চোঙা গল্পের প্রবক্তা চৌধুরী জহুরুল হককে স্মরণ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশনা করেন শাহিনা আক্তার পাপিয়া।

এরপরে ‘শত কথার শত গল্প’-এর লেখকরা তাঁদের ১০০ শব্দে গল্প লেখার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

মুক্ত আসর সেরা লেখক পুরস্কার-২০১৮ প্রথম অঞ্জন আচার্য, দ্বিতীয় কাজী্ ঐশী ও তৃতীয় খায়রুল বাবুই। এ ছাড়া চারজনকে দেওয়া হলো বিশেষ পুরস্কার। 

তাঁরা হলেন ভারতে তৈমুর খান, বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম ভুইয়া, নিগার সুলতানা বিলতু ও তাসনুভা অরিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন এ্যানি আসকার ও নিগার সুলতানা বিলতু।

সেরা লেখক পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক, শব্দসৈনিক ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন, কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব নূরুন আখতার, শিক্ষক ও সমাজসেবী রাশেদা নাসরীন, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সাঈদ ও কবি সাহিনা মিতা। 

এ সময় লেখকদের উত্তরীয়, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও বই তুলে দেওয়া হয়।

গবেষক আহমদ রফিক বলেন, ‘মুক্ত আসর স্বপ্ন-৭১’-এর এই অভিনব উদ্যোগ অভিনন্দনযোগ্য, যা আমাদের গল্পসাহিত্যে নতুনধারার সৃষ্টি প্রেরণা জোগাবে। আমার সঙ্গে তরুণদের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ। ৯০ বছর ছুঁয়ে ছুঁয়ে তবুও তরুণদের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে।’ 

প্রতিযোগিতার বিচারক আখতার হুসেন বলেন, ‘একজন লেখক হতে হলে তাকে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই পড়তে হবে। বাংলা সাহিত্যে যাঁরা যাঁরা গল্প লিখেছেন, তাঁদের গল্পগুলো আয়ত্ত করতে হবে। ১০০ শব্দে গল্প বিষয়টা চর্চার জন্য কর্মশালা আয়োজন করতে পারে আয়োজকরা।’ 

গল্পগুলো বিচার করতে গিয়ে তিনি যেসব বিষয় দেখেছেন, সেগুলো তুলে ধরেন এবং লেখকদের নানা পরামর্শ দেন। 

কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল বলেন, ‘তরুণদের ভেঙে পড়া যাবে না। বাধা অতিক্রম করতে হবে। লেখার জন্য বেশি বেশি করে পড়াশোনা করতে হবে। তাহলে শব্দভাণ্ডার ও চিন্তা শক্তিও বাড়বে।’

‘শত কথার শত গল্প’ বইয়ের সম্পাদক ও সংগঠনের সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা সবার সহযোগিতায় ১০০ শব্দের গল্প লেখা বিষয়টা আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলতে পারি। বিভিন্ন সময়ে কর্মশালা ও লেখক-পাঠক আড্ডা আয়োজন করতে পারি।’

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement