Beta

গাজীপুর সিটিতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছেই

০২ মে ২০১৮, ০১:০৯

আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা, বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ, সেই সঙ্গে বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সংখ্যা।

গত ২৪ এপ্রিল এ নির্বাচনের মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। নানা কৌশল নিয়ে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় শুরু করেছেন গণসংযোগ। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে, ভোটারদের সঙ্গে করছেন কুশল বিনিময়, করছেন উঠান বৈঠক ও পথসভা। এসব প্রচার-প্রচারণাকালে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ করে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। এতেও থামছে না আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব কুমার দেবনাথ ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছয় দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর মোট ২৯ কর্মী-সমর্থককে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা (অর্থদণ্ড) করেছে।

গত ছয় দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন ২৫ এপ্রিল আঠা দিয়ে প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর ঘটনায় এক যুবককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল কোনো ঘটনা না ঘটলেও ২৭ এপ্রিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের চারটি পৃথক ঘটনায় চারজনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ২৮ এপ্রিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছয়টি পৃথক ঘটনায় ছয়জনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাচনী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৯ এপ্রিল সাতটি ঘটনায় সাতজনকে এবং ৩০ এপ্রিল ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে ব্যবহার করায় মাইক ও ব্যানারসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ব্যানার পোস্টার রশিতে টানিয়ে, লিফলেট বিলি করে প্রচারণার কাজ করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে গাড়িতে, দেয়ালে, খুঁটিতে আঠা লাগিয়ে পোস্টার সাঁটানো আচরণবিধি লঙ্ঘন। রশিতে পোস্টার টানানোর বিধান থাকলেও  প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না। নির্বাচনী ক্যাম্পে ভোটারদের টিভি, ভিসিআর, ভিসিডি, ডিভিডি ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনোরূপ পানীয়, খাদ্য পরিবেশন, উপঢৌকন, বকশিশ ইত্যাদি প্রদান করা যাবে না। প্রচারণার কাজে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। ৬০-৪৫ সেন্টিমিটার সাইজের সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহারের নিয়ম থাকলে কোনো প্রকার রঙিন পোস্টার ব্যবহারের বিধান নেই। নির্বাচনে কোনো মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। পোস্টারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন পোস্টার লাগানো যাবে না। কিন্তু অনেক প্রার্থী বা তাঁর কর্মীরা তা মানছেন না।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘন থামাতে নির্বাচন কমিশন থেকে একজন করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স সহকারে ১৯টি টিমে ভাগ হয়ে ৫৭টি ওয়ার্ডে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করছেন। আগামী ১৩ মে থেকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই একটি করে মোট ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।

রকিব উদ্দিন মন্ডল আরো জানান, সব প্রার্থীকে আচরণবিধির কপি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারসহ স্থানীয়দের সচেতন করতে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। তারপরও ইনটেনশনালি অনেকেই আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। তা বন্ধ করতে আমরা নিবিড়ভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement