Beta

ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে না ফেরার দেশে ফারুক

১৩ মার্চ ২০১৮, ২৩:৩০ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ২৩:৩২

ছবিটি এখন কেবলই স্মৃতি। স্ত্রী এ্যানিকে রেখে শিশু প্রিয়ংময়ীকে নিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ফারুক। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখা হলো না গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের এফ এইচ প্রিয়ক ওরফে ফারুক হোসেন ও তাঁর তিন বছরের একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ী তামাররার। স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি ও একমাত্র সন্তান প্রিয়ংময়ীকে নিয়ে ফারুক বিমানে চড়ে নেপাল গিয়েছিলেন।

গতকাল সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় ওই বিমানটি। ঢাকা থেকে দুপুরে রওনা দেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ওই বিমান।

একই বিমানে ছিলেন ফারুকের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান অমিত ও অমিতের স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ফারুক ও তাঁর শিশু প্রিয়ংময়ী। ফারুকের স্ত্রী এ্যানিসহ অন্য তিনজন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত ফারুক হোসেনের মামা মশিউর রহমান জানান, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিমানে চড়ে আকাশ থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতটি দেখার প্রবল ইচ্ছে ছিল ফারুকের। সেজন্য বেশ কয়েক দিন ধরেই চলছিল নানা আয়োজন। ইচ্ছে পূরণ করতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ইউএস-বাংলার বিমানে চড়ে বাংলাদেশ থেকে সোমবার নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন ফারুক।

মশিউর রহমান আরো জানান, সোমবার দুপুরে বিমান বিধ্বস্তের খবর জানার পর থেকেই ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বেশ উদ্গ্রীব ছিলেন। এরপর নিজের সন্তান ও নাতনির মৃত্যুর সংবাদ জানার পর থেকে তিনি আহাজারি করে চলেছেন এবং মাঝেমধ্যেই মূর্ছা যাচ্ছেন।

হতাহতদের খোঁজ নিতে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় নেপালের উদ্দেশে রওনা হন মেহেদী হাসানের শ্বাশুড়ি সালমা বেগম, ফারুক হোসেনের বন্ধু সোহানুর রহমান সোহাগ ও মাহবুবুর রহমান। তাঁরা কাঠমান্ডু পৌঁছে দেশে স্বজনদের জানিয়েছেন হাসপাতালের মর্গে আছে ফারুক ও প্রিয়ংময়ীর ঝলসে যাওয়া লাশ। অপরদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এ্যানিসহ ওই দুই পরিবারের বাকি তিনজন নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে স্বামী ও সন্তানের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো এ্যানিকে জানানো হয়নি।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের শরাফত আলী ও ফিরোজা দম্পতির একমাত্র সন্তান ফারুক হোসেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে ফারুকের বাবা শরাফত আলী মারা যান। স্থানীয় জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক লাগোয়া গুলশান স্পিনিং মিলের কাছে দৃষ্টি নন্দন বাড়ি নির্মাণ করেন ফারুক। বাবার মৃত্যুর পর এ বাড়িতেই মা ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাস করেন ফারুক।

ফারুক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিতে নজর দেন। তাঁর প্রিয় শখ ছিল ছবি তোলা। তাঁর ইচ্ছে ছিল নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। 

এদিকে নেপাল বেড়াতে যাওয়ার আগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শেষ দেখা করে এসেছিলেন ফারুক।   

নিহত ফারুকের শ্বশুর সালাহ উদ্দিন ও স্বজনরা জানায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাজীর শিমলা এলাকার সালাহ উদ্দিনের মেয়ে আলমুন নাহার এ্যানিকে বিয়ে করেন ফারুক। মাস খানেক আগে ফারুক ভারত ভ্রমণ করে এসেছেন। এবার সপরিবারে নেপাল যান পৃথিবীর সর্বোচ্চ পাহাড় দেখার জন্য। নেপাল যাওয়ার একদিন আগে দোয়া চেয়ে বিদায় নিতে গত রোববার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ফারুক শ্বশুরবাড়ি যান।

সালাহ উদ্দিন আরো বলেন, ‘আমরা এখনো আমার মেয়ে এ্যানিকে তার স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর জানাইনি। বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এ্যানি নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।’

Advertisement