Beta

লালমনিরহাটে কর্মিসভায় ওবায়দুল কাদের

বিএনপি এখন ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে

২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৪১

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : এনটিভি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন শিক্ষাকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা মানুষ মেনে নেবে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপিকে ‘নালিশ’ পার্টি আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি প্রতিটি ঈদের আগে ঘোষণা দেয় যে ঈদের পরে আন্দোলন হবে। এবারও ঈদের আগে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া সেই আন্দোলন ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে লন্ডনে চলে যান। এখন বিএনপি যখন আন্দোলনের কথা বলে তখন মানুষ বলে- ‘এই বছর না ওই বছর আন্দোলন হবে কোন বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর?’ বিএনপির আন্দোলন এখন মরা গাঙ্গে, যেখানে জোয়ার আর আসে না। ফলে বিএনপি এখন পুরোপুরি আন্দোলনে ব্যর্থ। আন্দোলনে ব্যর্থ ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন কান্নাকাটি করেন, কর্মীদের দুঃখে নাকি তাঁর ঘুম নষ্ট হয়ে গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে যে দুটি মামলায় কোর্টে যাচ্ছেন- তা আমরা দেইনি। দুর্নীতির এই মামলা ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হয়েছে। অথচ বিএনপি মিথ্যাচার করে বলছে আমরা নাকি তাদেরকে হয়রানি করছি। এই মামলায় সরকার নয়, আদালত বিচার করছে। খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাজা হবে। আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তা হলে ছাড়া পাবেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, হাওয়া ভবনের লুটপাটের কথা বাংলার মানুষ ভুলে নাই। তাদের সময় দেশ রক্তগঙ্গায় ভেসেছে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী বাড়ি ছাড়া হয়েছিল। ঘটেছে অসংখ্য খুন, গুম ও ধর্ষণের মতো ঘটনা। দেশের মানুষ সেসব ভুলে যায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও দেশ রক্তগঙ্গায় পরিণত হবে। তাই মানুষ আর কোনো দিনই তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল এখন আসন ভাগাভাগি করেন। তিনি কখনো আওয়ামী লীগকে দেন ২৫টি, কখনো বা বলেন ৩০টি আসন আওয়ামী লীগ পাবে। কিন্তু তাদের নিজেদের সাথে নেই জনগণ। ফলে তারা জনসভা নয়, বসে বসে প্রেস ব্রিফিং করে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরদিন থাকে না।

বিলবোর্ডে ছবি দিলে নেতা হওয়া যায় না। জনগণকে খুশি করেন। যার আচরণে জনগণ খুশি হবে, তিনিই নেতা হবেন। ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করেন। অসুস্থ কর্মী ও তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। বাসায় বসে থেকে সদস্য সংগ্রহ অভিযান করবেন না। ঘরে ঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির কথা বলে সদস্য সংগ্রহ করুন। সুযোগ পেলে শীতের অতিথি পাখিরা নৌকায় ভিড়বে, সুযোগ শেষে আবার চলে যাবে। তাই সাবধান থাকুন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না।

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রসঙ্গে নিজ দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, ‘উঠান বৈঠকসহ ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের খোঁজ-খবর নিন। ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। তা করলে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিটি নেতার কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা আছে।

সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের প্রতিটা মানুষের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দিয়েছে সরকার। দেশের মানুষ আজ শান্তিতে রয়েছে। মঙ্গা শব্দটি এখন জাদুঘরে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের ঘরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয় জেনে শেখ হাসিনা সরকার মহিলাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। নারীরা আজ সচিব, ডিসি, এসপি হয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনে মহিলারাই প্রধান হাতিয়ার।

তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তার পানি শুকিয়ে গেছে। এই পানি চুক্তির ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি তারা দ্রুত তা বাস্তবায়ন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যখন সংসদে প্রতিনিত্ব করেছিল তখন নিবার্চনকালীন সরকারে আসার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা এতে রাজি হয়নি। এবার যেহেতু তারা সংসদে নেই, তাই এবার নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। এ সময় উপস্থিতি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মিঠু, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ, লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী।

এর আগে কর্মী সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান রহুল আমিন এবং হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলু।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement