গল্প লিখে সবচেয়ে আনন্দ পাই : শাহাদুজ্জামান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৫

ফিচার ডেস্ক

এবারের একুশে গ্রন্থমেলার নতুন বই ও মেলার আয়োজন নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান।

প্রশ্ন : এবারের মেলায় নতুন কী বই আসছে, পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে কি কোনো বই?

শাহাদুজ্জামান : এবার মেলায় আমার তিনটি বই প্রকাশিত হচ্ছে : ‘মামলার সাক্ষী ময়না পাখী’, এটি গল্পের বই, প্রকাশক প্রথমা। দ্বিতীয়টি হলো ‘গুগল গুরু’, নিবন্ধের বই, প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স এবং তৃতীয়টি হলো নির্বাচিত কলাম, প্রকাশক ঐতিহ্য।

প্রশ্ন : নতুন বইগুলো নিয়ে কিছু বলুন।

শাহাদুজ্জামান : বেশ কয়েক বছরের বিরতির পর ‘মামলার সাক্ষী ময়না পাখী’ আমার নতুন গল্পের বই। গল্প লিখে সবচেয়ে আনন্দ পাই। সেই আনন্দ ফিরে পেয়েছি এ বইয়ের এগারোটি গল্প লিখতে গিয়ে। এ বইয়ের কিছু গল্প পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলেও অধিকাংশ গল্প এর আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। এ ছাড়া গত বছর নানা পত্রিকায় কলাম নিবন্ধ লিখেছি। সেসব লেখার সংকলন ‘গুগল গুরু’ বইটি। আমি প্রথম আলো পত্রিকায় কলাম লিখি ১০ বছর ধরে। এক দশকের ওপর লেখা সেসব কলাম থেকে নির্বাচিত কিছু কলাম নিয়ে প্রকাশ করছি ‘নির্বাচিত কলাম’ নামে।

প্রশ্ন : এবারের মেলায় কোন বিষয়ের ওপর বই কিনবেন বা কাদের বই কিনবেন বলে ঠিক করেছেন?

শাহাদুজ্জামান : এবার মেলায় কোন বিষয়ে বই কিনব, এখনো ঠিক করিনি। খোঁজখবর করছি। আমার নজর থাকে নন-ফিকশন বইয়ের দিকে। ফিকশনও হয়তো কিনব। তবে ঠিক করিনি কিছুই।

প্রশ্ন : বয়সে বড় কাদের লেখা বই পড়েন? আর বয়সে ছোট কাদের লেখা বই ভালো লাগে?

শাহাদুজ্জামান : বয়স দেখে কি বই পড়া চলে? তবে আমার ভালো লাগা বহু লেখকই তো বয়সে আমার বড়। বাংলাদেশের প্রিয় যে দুই অগ্রজ লেখকের বইয়ের জন্য অপেক্ষা করতাম, তাঁরা তো কেউই আর পৃথিবীতে নেই। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আর শহীদুল জহিরের কথা বলছি। তাঁদের দুজনের সঙ্গেই বইমেলায় ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে আছে মনে। আর আমার বয়সে ছোট অনেকের গল্প-উপন্যাস পড়ছি। প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয় অনেককে। অনেকের ভাষার ওপর দখল বা কহিনী নির্মাণের দক্ষতা আছে। কিন্তু গল্প-উপন্যাসের কাছে আমি শুধু ভাষা আর কাহিনী প্রত্যাশা করি না। দেখতে চাই জীবনকে দেখবার চোখটা তার কেমন। আমরা যে জঙ্গম বহুস্তরী সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, তার দিকে একটা বৈশ্বিক দৃষ্টি আছে কি না। তেমন সম্ভাবনা স্বল্প কিছু লেখার ভেতর দেখি, এ মুহূর্তে সুমন রহমানের লেখার কথা মনে পড়ছে।

প্রশ্ন : একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে আপনার মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া বা কোনো পরামর্শ আছে কি?

শাহাদুজ্জামান : আমি দেশের বাইরে থাকি। বইমেলার সময় দেশে যাই। সাম্প্রতিককালে মেলার পরিসর যে বেড়েছে, সেটা খুব ভালো ব্যাপার। এখন বেশ স্বচ্ছন্দে মেলায় ঘোরা যায়। বইমেলা তো শুধু বই কেনাবেচার বিষয় না, এটা আড্ডা, আলাপের জায়গা। এবারের মেলায় এখনো যাইনি। শুনেছি স্থপতি নির্ঝর এবার মেলার স্টল বিন্যাসের ব্যাপারে নতুন কিছু পরিকল্পনা করেছেন, যা ভালো হয়েছে। দেখবার অপেক্ষায় আছি। বইমেলা শেষে শুনতে পাই, কত হাজার বই প্রকাশিত হলো কিংবা এবার কত কোটি টাকা ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু এসব তো বইমেলার সাফল্যের মূল মাপকাঠি না। আমাদের সাহিত্যের যাত্রাপথে একেকটা মেলা আমাদের নতুন কোনো প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে কি না, নতুন মানসম্পন্ন বই কেমন প্রকাশিত হচ্ছে, পাঠকরা সঠিক বইটি চিনে নিতে পারছেন কি না, এসব বিবেচনায় নেওয়া দরকার।