সব্যসাচী লেখকের শেষ দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩৭

ফিচার ডেস্ক

সাহিত্য অন্তপ্রাণ ছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। জীবনের শেষ সময়গুলোতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে লিখেছিলেন প্রায় ২০০ কবিতা। ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল জীবনের পড়ন্ত বেলার  লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘উৎকট তন্দ্রার নিচে’ ও উপন্যাস ‘নদী কারো নয়’। বই দুটি প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সব্যসাচী এই লেখকের শেষ দুটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, সৈয়দ শামসুল হকের পত্নী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তৃতা করেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্যপ্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরী স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মোড়ক উন্মোচনকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন। গান, কবিতা ও উপন্যাসসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় পদচারণার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকায় কাজ করেছেন, এমনকি চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্যও লিখেছেন। আধুনিকতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। তাঁর মোত শৃঙ্খল মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সৈয়দ শামসুল হককে আমি প্রবলভাবে অনুভব করি একজন অভিনয় শিল্পী হিসেবে। আমি তাঁর রচিত বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছিলাম। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ  থেকে আমরা সৈয়দ শামসুল হকের জন্মস্থান কুড়িগ্রামের জলেশ্বরীতে তাঁর নামে একটি স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছি।’

ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম বলেন, “সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন সুরসিক ও বন্ধুবৎসল। জীবনে তিনি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। দেখেছেন দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজের অভিজ্ঞা ও ইতিহাসের আলোকে তিনি রচনা করেছেন ‘নদী কারো নয়’ উপন্যাস।”

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘ছোটবেলায় সৈয়দ হক হারিয়েছেন কয়েকজন বন্ধুকে। সেটা ছিল দেশভাগের সময়। উপন্যাসে সেই বিয়োগান্ত বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। কবিতাতে উঠে এসেছে তার শেষজীবনের নানা একান্ত অনুভব ও স্মৃতিরাশি।’

সভাপতির বক্তৃতায় হাসনাত আবদুল হাই বলেন, “কেউ কেউ বলতে পারে ‘নদী কারো নয়’ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তিনি তা শেষ করে যেতে পারেননি। আমার তা মনে হয়নি। শেষবেলাতেও সৈয়দ হক লিখেছেন, উপন্যাসটি সমাপ্ত করে গিয়েছেন।”

কাব্যগ্রন্থ ‘উৎকট তন্দ্রার নিচে’ সৈয়দ হকের ৫০তম কাব্যগ্রন্থ। এতে ঠাঁই পেয়েছে ৪৩টি কবিতা। কর্কট ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পর লন্ডন ও ঢাকায় তার রোগশয্যায় কবি রচনা করেছেন এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা। জন্মভূমি বাংলাদেশ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, কর্কট রোগে আক্রান্ত উৎকট সময়ে চেতনায় খেলা করা নানা অনুভূতি, মৃত্যুবোধ ইত্যাদি মূর্ত হয়ে উঠেছে এই বইটির কবিতাগুলোতে। অন্যদিকে ‘নদী কারো নয়’ উপন্যাসটি দেশভাগ নিয়ে রচিত।