Beta

২০১৬ সালের সেরা দশ বই

০১ এপ্রিল ২০১৭, ১০:১১ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০১৭, ১১:০৩

বলা হয়ে থাকে একটি ভালো বই বন্ধুর মতো। কিন্তু হাজারো বইয়ের ভিড়ে ভালো বই খুঁজে পাওয়াটাও একটা ঝক্কি ঝামেলার ব্যাপার। আর ব্যস্ততার কারণে ভালো বই খুঁজে বের করার সময় না পাওয়ার কারণে বই পড়ার অভ্যাসটাকেই দূরে সরিয়ে রেখেছেন অনেকে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক ১০টি বই বাছাই করেছেন ২০১৬ সাল থেকে। উনার চোখে সেরা ১০ বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিত নিচে দেওয়া হলো। দেখুন বই পড়ার অভ্যাসটিকে ফিরিয়ে আনা যায় কি না।

১. দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল বোম্বস,  করণ মহাজন

এ বছরের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত প্রতিযোগী ছিল মহাজনের এই উপন্যাসটি। তীক্ষ্ণ, বিধ্বংসী, অনিশ্চয়তায় ভরপুর এই উপন্যাসটি শুরু হয় দিল্লির এক মার্কেটে সন্ত্রাসবাদী হামলার মাধ্যমে। উপন্যাসের দুই চরিত্র দীপা ও বিকাশ খুরানা যাদের তরুণ ছেলেরা সেই হামলায় মারা যায় ও আহত হয়, তার বন্ধু মনসুর যার বেড়ে ওঠা হয়েছিল রাজনৈতিক প্রগতিবাদের সঙ্গে। উপন্যাসটিকে এককথায় যদি বর্ণনা করতে হয় তাহলে বলা যায়, কোনো কিছুই বোমা হামলা দ্বারা অর্জিত হয় না : না আমাদের মানবতা অর্জিত হয়, না আমাদের রাজনীতি ও বিশ্বাস অর্জিত হয়।

২. দ্য নর্থ ওয়াটার, ইয়ান ম্যাকগুইরে

১৯ শতাব্দীর একজন আফিম আসক্ত আইরিশ শল্যচিকিৎসক অসভ্য, বর্বর, এবং নিষ্ঠুর একটি গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই উপন্যাস লিখেছেন ইয়ান ম্যাকগুইরে। যিনি মানসিক ব্যাধিযুক্ত এক ব্যক্তিকে একটি তিমি শিকারের আর্কটিক বাউন্ড জাহাজে খুন করেন। বিচিত্র, নির্মম ও ধারালো লেখনীতে ম্যাকগুইরে এই ঘটনার বর্ণনা করেন। উপন্যাসটিজুড়ে আছে জোসেফ কনরাড ও করম্যাক ম্যাকক্যার্থি নামের দুই চরিত্রের টানাপড়েন।

৩. দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোড, কলসন হোয়াইট হেড

একটি চিন্তা কখনো সাধারণ বা কখনো সাহসী হয়ে ওঠে। হোয়াইট হেডের সাহসী ও জরুরি এই উপন্যাস একটি দাসের কথা বলে, যে একটি পাতাল রেলস্টেশন থেকে পালিয়ে এসেছে। এই উপন্যাসে উঠে এসেছে দাসত্বের কথা। মূলত আমেরিকার কালোদের নির্যাতন নিপীড়নের ইতিহাস এই বইটিতে বর্ণনা করেছেন লেখক। কল্পকাহিনী হিসেবে এই বইটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে।

৪. দ্য ভেজিটেরিয়ান, হান কেং, অনুবাদক : ডেবরাহ স্মিথ

হ্যানের এই উপন্যাসে উঠে এসেছে একটি সাধারণ গৃহিণীর কথা যার স্বামী সবদিক দিয়েই বিশেষত্বহীন। একটি দুঃস্বপ্নের পর তিনি নিরামিষাশী হয়ে যান। পরিবারে একটি গৃহিণীর আত্মবিসর্জন কীভাবে তীব্র এবং পরাবাস্তব হয়ে ওঠে সেটাই বলা হয়েছে এই উপন্যাসে। কোরিয়ান ভাষায় লেখা উপন্যাসটির মূলভাব ঠিক রেখে এর ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে।

৫. ওয়ার অ্যান্ড টারপেনটাইন, স্টিফান হার্টম্যান্স, অনুবাদ : ডেভিড ম্যাককে

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেলজিয়াম সেনাবাহিনীর হয়ে লড়েছিলেন হার্টম্যান্সের চিত্রশিল্পী দাদা। হার্টম্যান্সের বইটি নোটবই এবং বিভিন্ন স্মৃতিকথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। মূলত নিজের চোখে দেখা তার দাদার কাহিনী তিনি তার নিজের ভাষায় লিখেছেন যিনি একাধারে ছিলেন একজন স্বামী, একজন বাবা আবার একজন চিত্রশিল্পীও। হার্টম্যান্স সুনিপুণভাবে তার স্মৃতি, চিত্র, ভালোবাসা এবং যুদ্ধকে একসঙ্গে করে একটি উপন্যাস লিখেছেন।

৬. অ্যাট দ্য এক্সিসটেনশিয়ালিস্ট ক্যাফে : ফ্রিডম বিং অ্যান্ড অ্যাপ্রিকট ককটেইলস, সারা ব্যাকওয়েল

এই বইটি আসলে সার্ত্রে, বুভোয়া, কামু, জেসপার্স, মার্লো-পন্টি, হাইদেগার সহ ছয়জন ইউরোপীয় লেখক এবং দার্শনিকের দর্শন তাঁদের মধ্যকার পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে লেখা হয়েছে। ১৯৩০ সালে কে সঠিক কে ভুল তা নিয়ে দার্শনিকরা দুভাগে ভাগ হয়ে যান। একপক্ষ চলে যান বুভোয়ার পক্ষে, আরেকপক্ষ চলে যান হাইদেগারের পক্ষে। তাদের বিভিন্ন ধরনের মতাদর্শ নিয়েই লেখা হয়েছে বইটি।

৭. ডার্ক মানি : দ্য হিডেন হিস্টোরি অব দ্য বিলিয়নিয়ার্স বিহাইন্ড দ্য রাইজ অফ দ্যা র‍্যাডিকেল রাইট, জন মেয়ার

১৯৮০ সালে দুই ভাই চার্লস এবং ডেভিড কচ সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা তাদের কালো টাকা আমেরিকার সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় করবেন। কারণ আমেরিকান রাজনীতি সবসময় এক রকম নাও থাকতে পারে। জন মেয়ার পাঁচ বছর এই দুই ভাইয়ের সংস্পর্শে থাকেন। তাঁর নিবিড় পর্যবেক্ষণই ফলাফল আকারে এই বইটির জন্ম দেয়। তাদের গোপন তথ্য সম্পর্কে জানা অতটা সহজ ছিল না, কিন্তু মেয়ার তাঁদের খুব কাছের মানুষ হয়ে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেন এবং দেখতে থাকেন আমেরিকান রাজনীতিতে কীভাবে কালো টাকা প্রবেশ করেছে।

৮. এভিকটেড : পোভার্টি অ্যান্ড প্রফিট ইন দ্য আমেরিকান সিটি, ম্যাথিউ ডেসমণ্ড

২০০৮ সালের মে মাসে ডেসমন্ড মিলওয়াকি ট্রেইলার পার্কে যান এবং সেখানে উত্তরের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষকে নিয়ে গবেষণা করেন। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে তিনি সেসব মানুষ থেকে তথ্য নিতে থাকেন যাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উপার্জনের টাকা বাড়ি ভাড়া দিতেই চলে যায়। তার বইয়ের মূল বক্তব্য শোষণ ও দারিদ্র্যের কারাগারে বন্দি মানুষকে নিয়ে।

৯. ইন দ্য ডার্করুম, সুসান ফালুদি

ফালুদি ছোটবেলায় বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁর বৃদ্ধ বাবার লিঙ্গ বৈষম্য প্রবল। হাঙ্গেরীয় গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা উন্মাদপ্রায় তার বাবা এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন, কিন্তু তার মা এটা দেখেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয়ে সেটা কাউকে বলেন না। নারীবাদী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ফালুদি তাঁর বাবার এই কথাটাই তুলে ধরেন তাঁর লেখায়।

১০. দ্য রিটার্ন : ফাদারস, সনস, অ্যান্ড দ্য ল্যান্ড ইন বিটুইন, হিসাম মাতার

হিসাম মাতারের বাবা জাবাল্লা মাথার ছিলেন মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির একনায়কতন্ত্রে একজন বিখ্যাত সমালোচক। যাকে ১৯৯০ সালে জোরপূর্বক নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। ছয় বছরের ধ্বংসযজ্ঞে জাবাল্লা মাথার বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে জাবাল্লার মৃত্যুসংবাদ জানা ছিল অসম্ভব। তাই ধরে নেওয়া হয়েছিল তিনি হারিয়ে গেছেন। হিসাম মাতার ২০১২ সালে লিবিয়াতে ফিরে যান। গাদ্দাফির পতন এবং লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের আগে তিনি তাঁর স্মৃতি লিপিবদ্ধ করেন বইটিতে। তাঁর শোক, সান্ত্বনা, স্বৈরতন্ত্র সবকিছু একসঙ্গে করে তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর লেখায়।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement