নিঃস্ব বেশে চলে গেলেন ভারতের ‘শেষ রাজা’

০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:৫০

অনলাইন ডেস্ক

রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চেলে গেলেন ভারতের ‘শেষ রাজা’ ব্রজরাজ খিয়াত্রিয়া বিরাবারা চম্পতি সিং মহাপাত্র । ৯৫ বছর বয়সে গত ৩০ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। একসময় তিনি রাজা থাকলেও মৃত্যুর সময় ব্রজরাজ ছিলেন বেশ দরিদ্র। তবে সম্পত্তি না থাকলেও নিজ এলাকার মানুষের ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী ছেড়েছেন তিনি।

ভারতীয় ভূখণ্ডে ব্রিটিশদের রাজত্ব চলাকালীন বর্তমান ওড়িশ্যার কটক জেলার বনজঙ্গলে ঘেরা তিগরিয়ায় ছিল ব্রজরাজের রাজত্ব। তাঁর পূর্ব পুরুষরা ১২৪৬ সালে রাজস্থান থেকে এসে ওড়িশ্যার ভুবনেশ্বরে রাজত্ব করা শুরু করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রায় ৮০০ বছরের পুরোনো সেই রাজবংশের অবসান হলো।

এক কালের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বংশের এই রাজার মৃত্যুর সময় সম্বল ছিল একটি কুঁড়েঘর আর সেখানে থাকা একটি বাঁশের খাট। ৩০ নভেম্বর যখন তিনি মারা যান তখন ঘরে ছিল না পরের দিনের অন্নের সংস্থান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরের বরাতে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে ১৯৪৩ সালে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন ব্রজরাজ। আর ১৯৪৭ এ তিনি রাজত্ব হারান। অল্প বয়সেই শিকারে দক্ষ ছিলেন ব্রজরাজ। গাড়ির শখও ছিল তাঁর। প্রায় ৫৬টি গাড়ি কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু রাজত্ব চলে যাওয়ার পর মদে আসক্ত হয়ে পড়েন ব্রজরাজ। পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৬০ থেকে তিনি তাঁর স্ত্রী রাসমনি দেবী এবং ছয় সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন।

আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন ব্রজরাজ। কটকের উপকণ্ঠে প্রায় চার একর জায়গার ওপর ছিল তাঁর রাজপ্রাসাদ।

তবুও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘রাজাই’ ছিলেন। আর সেই রাজার ঠাঁটবাটও নেহায়েত কম ছিল না। আর এই ঠাঁটবাটের খানিকটা টের পাওয়া যায় তাঁর শেষ ইচ্ছের কথা শুনে। ব্রজরাজের শেষ ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর যাতে তাঁর ‘প্রজাদের’ (তিগরিয়ার বাসিন্দার) কাছ থেকে ১০ রুপি খাজনা আদায়  করে তাঁর সমাধিস্থলে রাখা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর শেষ ইচ্ছে পূরণ করেছেন প্রজারা (গ্রামবাসী)।

সত্যি বলতে তিগরিয়ার গ্রামবাসী তাঁকে রাজার চাইতে বেশি সম্মান করতেন। তাঁরা তাঁকে রাজা না ডেকে ডাকতেন আজা (হিন্দিতে আজা অর্থ দাদু)। এলাকাবাসী জানিয়েছে, রাজার মতোই মহৎ হৃদয় ছিল ব্রজরাজের। সম্পত্তি একেবারেই না থাকার পরও দান-ধ্যানে কম করতেন না তিনি। আর এই দান-ধ্যানের কারণে যৌবনকালেই তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। তবুও কারো দুঃখ-কষ্টে সবার আগে এগিয়ে যেতেন গ্রামবাসীর প্রিয় ‘আজা’।

এলাকার হেমন্ত দাস জানান, ‘রাজ’ ব্রজরাজ নয় সবার প্রিয় ‘আজার’ মৃত্যুতে শোকাহত গ্রামবাসী। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষরণে একটি সমাধিসৌধ বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী।